


সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে বাগনান লাইব্রেরি ও আমতা মোড়ে দুর্ঘটনা এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই জাতীয় সড়কের এই দু’টি জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে উড়ালপুলের দাবি জানিয়ে আসছেন নাগরিকরা। বছর দু’য়েক আগেও উড়ালপুলের দাবিতে জাতীয় সড়কে আমতা মোড়ে পথ অবরোধ করেছিলেন নাগরিকরা। কিন্তু হয়নি উড়ালপুল। তাই রবিবার বেলায় ফের জাতীয় সড়কের আমতা মোড়ে আধ ঘণ্টা প্রতীকী পথ অবরোধ করলেন তাঁরা। কিন্তু তার ফলেই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে বাগনান থানার পুলিস ঘটনাস্থলে পৌছে অবরোধকারীদের বুঝিয়ে রাস্তা অবরোধ মুক্ত করে।
১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে রানিহাটি, পাঁচলা, উলুবেড়িয়ার নিমদিঘি মোড়ের মতো বাগনানের লাইব্রেরি ও আমতা মোড়েও প্রচুর গাড়ি চলাচল করে। গত কয়েক বছরে এই দু’টি মোড়ে একাধিক দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজনের মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে। ১৯ জুন লাইব্রেরি মোড়ে যাত্রীবাহী বাসে একটি লরি ধাক্কা দেওয়ায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছিল। এই ঘটনার পর আরও একবার এই দু’টি জায়গায় উড়ালপুল নির্মাণের দাবি উঠল।
স্থানীয় এক বাসিন্দা সৌমিত্র মজুমদার জানান, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বাগনানের লাইব্রেরি মোড় ও আমতা মোড়ে উড়ালপুল নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছি জাতীয় সড়ক কর্তপক্ষের কাছে। এই দাবিতেই আমরা ২০২৩ সালের ২৭ জুলাই জাতীয় সড়কের আমতা মোড় অবরোধ করেছিলাম। তখন উড়ালপুল নির্মাণ নিয়ে আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত উড়ালপুল নির্মাণ না হওয়ায় আজ আমরা প্রতীকী অবরোধ করলাম। এরপরেও যদি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ এখানে উড়ালপুল নির্মাণে উদ্যোগী না হয়, তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে জনস্বার্থ মামলা করার হুশিয়ারি দেন তিনি।
এই দাবির বিষয়ে বাগনানের বিধায়ক অরুণাভ সেন জানান, উড়ালপুলের দাবিতে বাগনানের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। সেই দাবিতে আজ বাগনান নাগরিক কমিটি পথ অবরোধ করেছিল। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনার জন্য আমরা মানুষকে মরতে দিতে পারব না। তাই এই উড়ালপুল নির্মাণের জন্য যতদূর যেতে হয় বাগনানের মানুষ ততদূরই যাবে।