সোমনাথ চক্রবর্তী, ময়নাগুড়ি: প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনায় (পিএমএমএসওয়াই) রঙিন মাছের চাষ করে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। মৎস্য দপ্তরের সহযোগিতায় ময়নাগুড়িতে ছ’টি এমন প্রকল্প শুরু হয়েছে। বিভিন্ন চাষের পাশাপাশি খুব কম জায়গায় রঙিন মাছের চাষ করে কৃষকরা যাতে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেন সেই চেষ্টাই করে চলেছে ব্লক মৎস্য দপ্তর।
বর্তমানে রঙিন মাছের আলাদা চাহিদা তৈরি হয়েছে। অনেকেই বাড়িতে রঙিন মাছের অ্যাকোয়ারিয়াম আজকাল রাখেন। যাঁরা বাড়িতে রঙিন মাছ রাখতে চান তাঁরা এখন সহজেই ময়নাগুড়ি থেকে এমন মাছ সংগ্রহ করতে পারবেন। ময়নাগুড়ি ব্লকের ব্যাঙকান্দির কৃষক অজিত সরকার ইনোভেটিভ ফার্মার অ্যাডওয়ার্ড পেয়েছেন। পাশাপাশি তিনি কৃষক সম্মান থেকে শুরু করে কৃষক রত্ন, উদ্যান রত্ন সম্মান পেয়েছেন। সম্প্রতি মালদহ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছেন। এবার নিজের বাড়িতেই মাত্র ৪০ ফুট জায়গায় পাকা চেম্বার বানিয়ে রঙিন মাছের চাষ শুরু করেছেন। এখানে মাছের ডিম থেকে মাছের চারা তৈরি করা হচ্ছে। কৃষক রত্ন অজিতবাবু বেশ কয়েকজনকে প্রশিক্ষণও দিচ্ছেন। তিনি চাইছেন, আরও কৃষক রঙিন মাছ চাষে এগিয়ে আসুক এবং লাভবান হোন। শিলিগুড়ি সহ অসম থেকে পাইকাররা এসে তাঁর বাড়ি থেকে রঙিন মাছ নিয়ে যাচ্ছেন।
ময়নাগুড়ি ব্লক মৎস্য আধিকারিক বিপ্লব সাহা বলেন, এটা একটি সরকারি প্রকল্প। ময়নাগুড়িতে ছ’টি এমন প্রকল্প চলছে। পরবর্তীতে আবার এই চাষের নতুন প্রকল্প শুরু হলে আমরা জানিয়ে দেব। ময়নাগুড়িতে যাঁরা রঙিন মাছ চাষ করতে ইচ্ছুক তাঁরা ব্লক অফিসে এসে কিংবা নির্দিষ্ট পোর্টালে আবেদন করতে পারবেন। রঙিন মাছের চাষ করে কৃষকদের লাভবান হওয়ার জন্যই এই প্রকল্প। কারণ রঙিন মাছের আলাদা চাহিদা রয়েছে। এই প্রকল্পে এসসি, এসটি ও মহিলাদের জন্য ৬০ শতাংশ ভর্তুকি মিলছে। জেনারেল ক্যাটাগরির আবেদনকারীরা পাবেন ৪০ শতাংশ ছাড়।
অজিত সরকার বলেন, আমার কাছে বাইশ প্রজাতি মাছ এই মুহূর্তে রয়েছে। এর মধ্যে অ্যাঞ্জেল, গোল্ড ফিশের চাহিদা বেশি। এগুলি ছাড়াও নানা প্রজাতির মাছ আছে। তিন লক্ষ টাকার প্রকল্পটি। ভুর্তুকি পেয়েছি ৬০ শতাংশ। আমি সম্প্রতি প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছি। মৎস্য দপ্তর আমাকে খুব সহযোগিতা করছে। আমি চাই, আমার মতো আরও অনেকে রঙিন মাছ চাষে এগিয়ে এসে আর্থিক দিক থেকে লাভবান হোক।



