নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। দোল উৎসবে মেতে উঠবে আম বাঙালি। স্বাস্থ্যের কথা ভেবে বাজারে এসেছে নানা রকমের ভেষজ আবির। ক্রেতাদের ঝোঁক রয়েছে সেই আবিরের প্রতি। তবে এবার বিভিন্ন রঙের আবিরের থেকে সবুজ আবিরের চাহিদা যেন একটু বেশি। এই সবুজ আবির তৈরি হচ্ছে বাঙালির প্রিয় পালং শাক ও ধনেপাতা দিয়ে। পালং ও ধনে ফ্লেভারের সবুজ আবির কিনতে রীতিমতো হিড়িক পড়েছে। আবির কেনার আগে রীতিমতো শুঁকে দেখছেন ক্রেতারা।
প্রতি বছরই ভেষজ আবির তৈরি হয় সারগাছির কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রে। সহজ পদ্ধতিতে গ্রামের মহিলাদের দিয়েই আবির তৈরি করছে কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা। এবারও কোমর বেঁধে নেমেছে তারা। সাধারণত অ্যারারুট বা কর্নফ্লাওয়ার পাউডারের সঙ্গে ফল ও ফুলের নির্যাস মিশিয়ে তৈরি হয় সুগন্ধি আবির। সবুজের পাশাপশি গেরুয়া, হলুদ, সবুজ, লাল রঙের আবিরের চাহিদা বেশি হওয়ায় সেগুলি তৈরিতে মনোনিবেশ করেছেন প্রস্তুতকারকরা। রামকৃষ্ণ মিশনের উদ্যোগে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের মহিলাদের পরিশ্রমে সুগন্ধি আবির বাজারজাত হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, গেরুয়া রঙের আবিরের জন্য কর্নফ্লাওয়ার পাউডারের সঙ্গে সিঁদুর ফল থেকে নির্যাস বের করে মেশানো হচ্ছে। লাল রঙের জন্য জবা ফুলের পাপড়ির গুঁড়ো মিশিয়ে দেওয়া হয়। এদিকে লাল ও গোলাপি রঙের জন্য বিট রুটের নির্যাসের সঙ্গে মিশছে কর্নফ্লাওয়ার পাউডার। হলুদ রঙের আবিরের জন্য গাদা ফুলের পাপড়ির গুঁড়ো ব্যবহার হয়। কমলালেবুর খোসা মেশানো হবে কমলা রঙের জন্য। তবে সুগন্ধির জন্য প্রতিটি আবিরেই রজনীগন্ধা ফুলের এসেন্স ব্যবহার করা হয়। তবে পালং ও ধনে পাতার নির্যাস সাদা অ্যারারুটের সঙ্গে মিশিয়ে সবুজ আবির তৈরি করা হচ্ছে।
সারগাছির কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের বিজ্ঞানী ছন্দা পারিয়া বলেন, সমস্ত ফুল শুকিয়ে গুঁড়ো করতে হয়। তারপর সেগুলি মেশানো হয়। এবারও সারগাছি রামকৃষ্ণ মিশনের জন্য প্রায় ১০ কেজি আবির তৈরি করা হবে। তিনটি সেলফ হেল্প গ্রুপের মহিলাদের কাজে লাগানো হচ্ছে। তবে বেশকিছু মহিলা নিজ উদ্যোগে আবির তৈরি করে বাজারেও বিক্রি করেন। এই ভেষজ আবিরের চাহিদা খুব বেশি। তবে পালং ও ধনে পাতার নির্যাসের সবুজ আবিরের চাহিদা রয়েছে বাজারে। তাই এবার আমরা একটু বেশি পরিমাণে এই দু’টি ফ্লেভারের সবুজ আবির তৈরি করেছি।