নয়াদিল্লি: ভারতের যাবতীয় আপত্তিতে আমলই দেয়নি আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার (আইএমএফ)। পাকিস্তানের জন্য মঞ্জুর করা হয়েছে ১০০ কোটি ডলারের ঋণ। ভারতীয় মুদ্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকারও বেশি। আবার আগামী জুনেই বিশ্বব্যাঙ্ক থেকে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ পাওয়ার কথা রয়েছে ইসলামাবাদের। সন্ত্রাসবাদের আর্থিক মদতদাতা পাকিস্তান যাতে তা না পায়, সেজন্য এবার বিশ্বব্যাঙ্কের কাছে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আর্জি জানাবে ভারত। একইসঙ্গে চেষ্টা চালাবে পাকিস্তানকে ফের ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্সের (এফএটিএফ) ধূসর তালিকায় ঢোকানোর ব্যাপারেও। জঙ্গিদের অর্থসাহায্যের উপর নজরদারি করা আন্তর্জাতিক সংস্থাটির কাছে এ জন্য দরবার করবে নয়াদিল্লি। এন্তত তেমনই খবর সরকারি সূত্রে। যদিও এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানকে কেন এত বিপুল পরিমাণ ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার কারণ ব্যাখ্যা করেছে আইএমএফ। তাদের বক্তব্য, এই ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করেছে ইসলামাবাদ। তাই এই সিদ্ধান্ত।
এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফেসিলিটি (ইএফএফ) প্রকল্পের অধীনে পাকিস্তানকে এই ঋণ মঞ্জুর করেছে আইএমএফ। ধাপে ধাপে মোট ২১০ কোটি ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকার বেশি) ঋণ দেওয়া হচ্ছে। আইএমএফের যোগাযোগ বিভাগের ডিরেক্টর জুলি কোজাক বিবৃতি দিয়েছেন, ঋণের জন্য পাকিস্তান প্রয়োজনীয় সকল শর্তপূরণ করেছে। বেশ কিছু সংস্কারের বিষয়েও সাফল্য পেয়েছে ইসলামাবাদ। তাই বোর্ড ঋণ মঞ্জুর করেছে। যদিও প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়ার আগে পাকিস্তানের উপর ১১ দফা শর্ত চাপিয়েছে আইএমএফ। শুধু তাই নয়, ওই আন্তর্জাতিক সংস্থাটির তরফে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাজেটও নির্ধারিত করে দেওয়া হয়েছে। ফলে চাইলেও তা বাড়াতে পারবে না ইসলামাবাদ।
পাক অর্থনীতির দৈন্যদশা যে দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে, তা শাহবাজ শরিফদের এই ঢালাও ঋণ নেওয়ার প্রবণতাতেই স্পষ্ট। আর তাতেই বাধা দিতে চাইছে দিল্লি। তাই পাকিস্তানকে যাতে এফএটিএফের ধূসর তালিকাতে আবার ঢুকিয়ে ফেলা যায়, তার জন্য চেষ্টা শুরু হয়েছে। ৪০ সদস্য নিয়ে গঠিত এই আন্তর্জাতিক নজরদারি সংগঠনে ভারতও রয়েছে। চার বছরেরও বেশি সময় ধরে এফএটিএফের ধূসর তালিকায় ছিল পাকিস্তান। ২০২২ সালে তারা সেই তালিকা থেকে বেরিয়ে আসে।কিন্তু এসবের পরেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বারবার সন্ত্রাসে আর্থিক মদত ও জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রমাণ সহ তা তুলে ধরে ফের তাদের ওই তালিকাভুক্ত করার আবেদন জানাতে চলেছে নয়াদিল্লি। সূত্রের খবর, এর জন্য আগামী জুনেই বিশ্ব ব্যাঙ্ক ও এফএটিএফের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করবেন দিল্লির প্রতিনিধিরা।