সংবাদদাতা, রামপুরহাট: মহারাষ্ট্রের পর এবার দিল্লি পুলিস। বাংলাদেশি সন্দেহে বীরভূমের পাইকরের ছ’জনকে পুশব্যাক করে পাঠিয়ে দেওয়া হল বাংলাদেশে। যারমধ্যে আট ও পাঁচ বছরের দুই শিশুও রয়েছে। যা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে পড়েছেন আত্মীয়স্বজনরা। বিষয়টি জানার পর সোচ্চার হয়েছেন রাজ্য পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল সাংসদ সামিরুল ইসলাম। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের বিতাড়ন কবে বন্ধ হবে? বিজেপি নেতারা কবে বুঝবেন যে তারা যাদের বিদেশি নাগরিক বলে বিতাড়ন করছে তাঁদের অধিকাংশই প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক। আমরা আইনি লড়াই লড়ছি। সকলস্তরের মানুষকে এর বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার অনুরোধ জানিয়েছেন তিজন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ আদৌ এই অমানবিক ঘটনা বন্ধ করতে কোনও পদক্ষেপ নেবেন কিনা সেই প্রশ্নও রেখেছেন তিনি।
জানা গিয়েছে, দিল্লি পুলিস দুই পরিবারের ছ’জন সদস্যকে বাংলাদেশে পুশ ব্যাক করেছে। তাঁরা হলেন, দানিশ শেখ, স্ত্রী সোনালি বিবি ও তাঁদের পাঁচ বছরের ছেলে। এছাড়া রয়েছেন সুইটি বিবি ও তাঁর দুই সন্তান। তাঁদের সকলের বাড়ি পাইকর গ্রামে। দানিশ শেখ, সুইটি বিবি দীর্ঘদিন ধরে দিল্লির ২৬ সেক্টর রোহিনী বাঙালি বস্তিতে থেকে ভাঙাচোরা জিনিসপত্র কেনাবেচার কাজ করেন। গত ঈদে তাঁরা বাড়ি এসেছিলেন। সোনালির মামাতো বোন রোশনি বিবি পরিবার নিয়ে দিল্লিতে থাকেন। তিনি বলেন, গত ১৮জুন তাঁদের বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করে দিল্লি পুলিস। ভারতীয় নাগরিকের প্রমাণপত্র হিসেবে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড দেখানো সত্ত্বেও তাঁদের ছাড়া হয়নি। পাইকর পঞ্চায়েত থেকে বাসিন্দাদের শংসাপত্র পাঠানো হলেও রেহাই মেলেনি। ২২জুন তাঁদের নামে এফআইআর করে পুলিস। পরে ২৬জুন তাঁদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। প্রথমে আমরা জানতাম না। অনেক থানায় খোঁজাখুঁজির পর জানতে পারি ওদের বাংলাদেশে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
রোশনির দাবি, বাংলাদেশ থেকে সোনালি একজনের ফোন থেকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করেছিল। তাদের সেদেশে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে কেউ খেতে দিচ্ছে না। সীমান্ত পার করতেও দেওয়া হচ্ছে না। খুব কষ্টে রয়েছে বলে কান্নাকাটি করতে থাকে। রোশনি বলেন, আমাদের সকলের জন্ম এখানে। ভারতীয় নাগরিকের প্রমাণপত্রও রয়েছে। কিন্তু বাংলায় কথা বলায় বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এখন কী করব ভেবে পাচ্ছি না। আতঙ্কে আমরা সবাই পাইকরে চলে এসেছি। পাইকর-১ পঞ্চায়েতের প্রধান আব্দুল হাই বলেন, দু’টি পবিবারই অত্যন্ত দুঃস্থ। গত ৩জুলাই ওদের আত্মীয়স্বজন আমার কাছে আসে। আমি ওই ছ’জনের নামে স্থায়ী বাসিন্দার শংসাপত্র দিই। পরবর্তী সময়ে জানতে পারি দুই শিশু সহ ওই ছ’জনকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করেছে দিল্লির পুলিস। দিল্লির সিভিল অথরিটির রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের একটি কাগজ হাতে পাই। তাতে জানতে পারি ওদের নামের পাশে জাতীয়তা হিসেবে বাংলাদেশি লেখা রয়েছে। অথচ ওরা বাংলাদেশি নয়। ওরা ভারতীয়। এই অত্যাচার আর সহ্য করা যাচ্ছে না।