নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দিল্লি তথা এনসিআরে নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসের ‘দূষণ-ছবি’ ফিরল মে মাসেই! পার্থক্য বলতে, নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে কার্যত ধোঁয়াশার পুরু আস্তরণে ঢেকে যায় শহর। মে মাসে তা বদলে গেল ধুলোয়। বুধবার বেশি রাতে আচমকাই ধুলোর চাদরে ঢেকে গেল দিল্লি, এনসিআর। বাতাসের গতি ঘণ্টায় তিন থেকে সাত কিলোমিটার হওয়ায় ধুলোর চাদর আরও পুরু হয়। সেইসঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমে যায় দৃশ্যমানতাও।
এর জেরে বৃহস্পতিবার শহরের বাতাসে একিউআই (এয়ার কোয়ালিটি ইন্ডেক্স) ছাড়িয়ে গেল ২০০-এরও বেশি। অর্থাৎ, দিল্লি, এনসিআরের দূষণ পরিস্থিতি একধাক্কায় সন্তোষজনক অবস্থান থেকে পৌঁছে গেল খারাপ মাত্রায়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অবশ্য দিল্লির বেশ কিছু এলাকায় বায়ু দূষণের মান অত্যন্ত খারাপ, এমনকী বিপজ্জনক মাত্রাতেও পৌঁছে গিয়েছে। সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবার দিনভর দেশের রাজধানী শহরের মানুষকে ভুগতে হয়েছে শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা বা তীব্র হাঁচি-কাশির সমস্যায়। সবথেকে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়েছে প্রবীণ এবং শিশুদের।
দূষণ পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর অবস্থায় পৌঁছেছে যে, দেশের অন্যতম দূষিত শহরগুলির মধ্যে প্রথম পাঁচেই স্থান পেয়েছে দিল্লি। গাজিয়াবাদ পৌঁছে গিয়েছে প্রথম সাতে। এর ফলে উদ্বেগ চরমে উঠেছে। প্রসঙ্গত, সপ্তাহ কয়েক আগেই বছরের প্রথম ভারী বৃষ্টিতে একপ্রকার ভেসে গিয়েছিল দিল্লি। জলমগ্ন হয়ে পড়ে শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রথম পরীক্ষাতেই ‘ফেল’ করেছিল দিল্লির বিজেপি সরকার। রাজনীতির কারবারিদের কটাক্ষ, দিল্লিতে ক্ষমতায় আসার পর দূষণ মোকাবিলার প্রথম পরীক্ষাতেও পাস মার্ক পেরল না বিজেপি সরকারের। ইতিমধ্যেই এই ইস্যুতে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। তোপ দেগেছে দিল্লির প্রাক্তন শাসকদল আম আদমি পার্টি। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপি সরকারকে তুলোধনা করেছেন আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল। দিল্লি বিধানসভার বিরোধী দলনেত্রী আতিশীর অভিযোগ, ইতিপূর্বে কখনও মে মাসে দিল্লিতে এহেন দূষণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। অথচ এবার একিউআই ৫০০ ছাড়িয়েছে।
কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের পরিসংখ্যান বলছে, বৃহস্পতিবার বিকেল চারটে পর্যন্ত দিল্লিতে সার্বিকভাবে একিউআইয়ের মান ছিল ২৯২। সংলগ্ন গাজিয়াবাদে ২৭৮, নয়ডায় ২৭৬, গ্রেটার নয়ডায় ২৪৬। প্রতি ক্ষেত্রেই বায়ু দূষণের মান ‘খারাপ’। গুরুগ্রামে অবশ্য এদিন বিকেল ৪টে পর্যন্ত বাতাসে একিউআইয়ের মান ছিল ৩১৬। যা ‘অত্যন্ত খারাপ’। পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছিল বৃহস্পতিবার সকালে। সকাল আটটায় দিল্লির আনন্দ বিহার, আর কে পুরম, লোধি রোড, জাহাঙ্গিরপুরীর মতো প্রতিটি এলাকায় এয়ার কোয়ালিটি ইন্ডেক্স ২০০-এর বেশি হয়ে গিয়েছিল।