নয়াদিল্লি: অবশেষে দিল্লির ভেঙে পড়া হস্টেলের মালিককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। সোমবার রাজস্থানের ভিওয়ারি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাস লাগোয়া সত্য নিকেতন এলাকায় হস্টেল হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭। দিল্লির চিফ ফায়ার অফিসার এ কে মালিক জানিয়েছেন, ভগ্নস্তূপ থেকে ১৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পরেই হস্টেলের মালিক হরিরাম গুপ্তা গাঢাকা দেন। তাঁকে ধরতে লুক আউট নোটিশ জারি করে দিল্লি পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুন, আবাসনের দেখভালে অবহেলা সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।
তিনদিন আগেই পাঁচতলা ‘হস্টেল ডেজ’ বিল্ডিংটিকে বিপজ্জনক ও ভেঙে পড়ার মতো অবস্থায় বলে চিহ্নিত করে পুরকর্তৃপক্ষ। এর পরেও কেন ৪০-৫০ বছরের পুরানো বাড়িটিকে খালি করা হল না, সেই প্রশ্ন উঠছে। এই ঘটনায় দিল্লি পুরসভার পাঁচ কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লিখেছেন, ‘বিজেপি সরকার সেই একই লজ্জাজনক কাজ করে চলেছে। আগাম সতর্কতার কোনো বালাই নেই। ঘটনার পরে কিছু জুনিয়র অফিসারের উপর দায় চাপিয়ে দেওয়া হয়। মূল অপরাধীরা অধরা থেকে যায়।’
এআইসিসির মুখপাত্র তথা যুব কংগ্রেসের ইনচার্জ কানহাইয়া কুমার সাংবাদিক সম্মেলনে কটাক্ষের সুরে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নতুন সংসদ ভবন, সেন্ট্রাল ভিস্তা করেছেন। কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের হস্টেল করতে পারেননি। আসলে করেননি। কেন না, দিল্লির বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে সিংহভাগ বেসরকারি হস্টেলের মালিক বিজেপির নেতারা। তাঁদের ব্যবসা বাড়াতে সরকার ছাত্রদের জীবনকে সংশয়ে ঠেলে দিতেও পিছপা নয়। বিকশিত ভারতের প্রচারের আগে শিক্ষিত ভারত গড়ে তোলায় জোর দিক সরকার।
হস্টেল ভেঙে পড়া নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। শুনানিতে বিপর্যয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। আদালত ঘটনার উচ্চ পর্যায়ের তদন্তেরও নির্দেশ দিয়েছে। হাইকোর্টের বেঞ্চ জানিয়েছে, পুরসভা এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও ঘটনার দায় এড়াতে পারে না।
এই পরিস্থিতিতে আবার সামনে এসেছে বিতর্কিত আইএএস আধিকারিক সঞ্জীব কিরওয়ারের নাম। পোষ্যকে নিয়ে মর্নিং ওয়াকের জন্য খেলোয়াড়দের অনুশীলন বন্ধ রাখা সংক্রান্ত বিতর্কের জেরে চার বছর আগে তাঁকে লাদাখে বদলি করা হয়। এরপর আবার পুরসভার কমিশনার হিসাবে তিনি দিল্লি ফিরে আসেন। পুরসভার পক্ষে এদিন সাংবাদিক বৈঠক করেছেন তিনিই।