নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: দিল্লি থেকে ডেকে ব্যবসায়িক পার্টনারকে সিনেমার কায়দায় অপহরণ। পরে পরিবারকে ফোন করে এক কোটি টাকা মুক্তিপণের দাবি করে দুষ্কৃতীরা। তদন্তে নেমে অপহৃত ব্যবসায়ীকে উদ্ধারের পাশাপাশি তিনজনকে গ্রেপ্তার করল শাসন থানার পুলিস। সোমবার গভীর রাতে স্বরূপনগরের চারঘাট থেকে তাদের পাকড়াও করেছে পুলিস। ধৃতরা হল সাদ্দাম মণ্ডল, সজ্জন মণ্ডল ও জামালউদ্দিন মণ্ডল। মঙ্গলবার ধৃতদের বারাসত আদালতে তোলা হলে ২০ জুন পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। এদিকে, সাদ্দাম স্বরূপনগর বিধানসভার চারঘাট পঞ্চায়েতের তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি। সজ্জনের স্ত্রী চারঘাট পঞ্চায়েতের তৃণমূলের নির্বাচিত সদস্যা। আর বাদুড়িয়ার জামালউদ্দিন তৃণমূল কর্মী বলেই পরিচিত। অপহরণকাণ্ডে শাসক দলের নাম জড়ানোয় শুরু হয়েছে বিতর্ক। স্বরূপনগরের তৃণমূল বিধায়ক বীণা মণ্ডল জানিয়েছেন, ধৃতরা তৃণমূল করলেও, দল এটাকে প্রশ্রয় দেয় না।
চক্রের ‘মাস্টারমাইন্ড’ জসিমউদ্দিন মণ্ডল ওরফে রাজুকে ধরতে জাল পেতেছে পুলিস। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লির বাসিন্দা নাজিম চৌহানের সঙ্গে রাজুর যৌথভাবে হ্যাচারির ব্যবসা ছিল বসিরহাটে। এখন তাতে তালা ঝুলছে। তাদের দু’পক্ষের মধ্যে দেনা-পাওনা নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। তারা ঠিক করে বসিরহাটের এক পরিচিতর মধ্যস্থতায় বিষয়টি মিটমাট করবেন। সেই মতো গত রবিবার সকাল আটটা নাগাদ নাজিম কলকাতায় আসেন। এয়ারপোর্টেই গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছিল রাজু। খড়িবাড়ি রোড ধড়ে সন্ডালিয়া রেলগেট পেরতেই হঠাৎ শৌচকর্মের জন্য গাড়ি থামাতে বলে রাজু। গাড়ি থামিয়ে রাজু নামতেই তখনই পিছনে থাকা আরেকটি চারচাকা গাড়ি ক্যাবের সামনে থেমে রাজু ও নাজিমকে তুলে নিয়ে যায়। তা দেখেই হতবাক হয়ে যান ক্যাব চালক মিরাজুল গাজি। তৎক্ষণাৎ তিনি শাসন থানায় গোটা ঘটনা জানান। দুপুরের দিকে অপহরণকারীরা নাজিমের বাড়িতে ফোন করে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পুলিস সূত্রে খবর, অপহরণের কিছু সময় পরে ক্যাব চালককে ফোন করে রাজু বলে, তোমার চিন্তা নেই। আমরা ওকে এক জায়গায় আটকে রেখেছি। টাকা পয়সা নিয়ে আমাদের মধ্যে বোঝাপড়া মিটে গেলেই ছেড়ে দেব। এরপরই ওই মোবাইল নম্বরের লোকেশন ট্র্যাক করে তল্লাশি অভিযান শুরু করে শাসন থানার পুলিস। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে অপহরণকারীরা দিল্লির ব্যবসায়ীকে রাস্তার ধারে ফেলে রেখে চম্পট দেয়।