নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ‘ডিলিটেড’ ভোটার! তা হলে মিলবে না পশ্চিমবঙ্গ আবাসের (পিবিএ) দ্বিতীয় কিস্তির টাকা। পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের সঙ্গে বৈঠকের পর একথা বলেন শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের বিরোধী দলনেতা বিজেপির অজয় ওরাওঁ। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ডিলিটেড ভোটারদের কাছ থেকে পিবিএ’র প্রথম কিস্তির টাকাও আদায় করা হবে। প্রয়োজন পড়লে হবে এফআইআর।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের উপভোক্তদের নামের তালিকা ফের যাচাই করা হচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে রাজ্যে উপভোক্তার সংখ্যা ১৮ লক্ষ ৬৫ হাজার ৪৬৪ জন। এরমধ্যে এখনও পর্যন্ত যাচাই হয়নি ৪ লক্ষ ৮৪ হাজার ৪৫৩ জনের নাম। যা মোট উপভোক্তার মধ্যে ২৬ শতাংশ।
তিনদিন ধরে উত্তরবঙ্গে রয়েছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। গত শনিবার তিনি দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে পিবিএ নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। প্রশাসন সূত্রে খবর, সংশ্লিষ্ট আবাস প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকা যাচাইয়ের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। কতজন উপভোক্তার নাম ভোটার তালিকায় আছে, গ্রামীণ রোজগার গ্যারান্টি কার্ড আছে কি না বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তালিকা যাচাইয়ের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিয়েছেন বলে খবর।
সোমবার শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের বিরোধী দলনেতা বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের যেসব উপভোক্তার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তারা প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাবেন না। আর প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়া ডিলিটেড ভোটারদের কাছ থেকে সেই অর্থ ফেরত নেওয়া হবে। প্রয়োজন পড়লে এক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এরবাইরে যারা টাকা পেয়েও গৃহনির্মাণ শুরু করেননি, তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কঠোর পদক্ষেপ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হবে। বাড়ি নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে দুনীর্তি রুখতেই এমন নির্দেশ দিয়েছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী।
এদিকে, পিবিএ’র উপভোক্তা তালিকা নিয়ে রাজ্যজুড়ে যাচাই অভিযান চলছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, পূর্ব বর্ধমান জেলায় পিবিএ’র উপভোক্তা সংখ্যা ৭৩ হাজার ৫৭৩ জন। এরমধ্যে যাচাই হয়নি ৫১ হাজার ৬৯৪ জনের নাম। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৩ লক্ষ ৭৬ হাজার ৫৭৪ জনের মধ্যে ২ লক্ষ ৩৭ হাজার ৪৩, কালিম্পংয়ে ৪৫ জনের মধ্যে ২৭ হাজার, উত্তর ২৪ পরগনায় ৬৫ হাজার ১৮৭ জনের মধ্যে ১৮ হাজার ৮৩ এবং শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদে ১১ হাজার ৩৮২ জনের মধ্যে ৩১২৮ জনের নাম যাচাই করা হয়নি। অন্যান্য জেলাগুলির অবস্থাও একই। কেবলমাত্র পূর্ব মেদিনীপুর ৩১০ জনের নাম যাচাই হয়নি। আর জলপাইগুড়ি জেলায় কোনো নাম যাচাই বকেয়া নেই। কাজেই, সংশ্লিষ্ট দু’টি জেলায় মোট উপভোক্তার বিচারে যাচাইয়ের হার শূন্য শতাংশ।