নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: জল থই থই করছে হাবড়া পুরসভার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড। এই পরিস্থিতিতেই মঙ্গলবার সকালে ঘটে গেল মর্মান্তিক ঘটনা। হঠাৎই অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি। কারণ জল পেরিয়ে রোগীকে হাসপাতালে আনতে হয়েছে। তাতে বেশ কিছুটা সময় নষ্ট হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। মৃতের নাম বিধান হালদার (৪৫)। ঘটনাটি হাবড়া পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের লোকনাথ সরণির। প্রায় ৮০০ মিটার পথ টিউবের ভেলায় নিয়ে যাওয়া হয় রোগীকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, টানা বৃষ্টিতে হাবড়া পুরসভার একাধিক ওয়ার্ডে এখনও জল জমে রয়েছে। নিচু এলাকা বলে পরিচিত ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এখনও হাঁটু সমান জল রয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুরসভা সঠিকভাবে কাজ না করায় জল জমে রয়েছে। এই আবহে মঙ্গলবার সকালে রোগী মৃত্যুর ঘটনা ফের অস্বস্তি বাড়িয়েছে পুরসভার।
আট নম্বর ওয়ার্ডের লোকনাথ সরণির বিধান হালদারের সুগার ছিল। এদিন বাড়িতে তাঁকে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তড়িঘড়ি জমা জলের মধ্য দিয়ে তাঁকে নিয়ে কোনওরকমে হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে পৌঁছন পরিবারের লোকজন। প্রায় ৮০০ মিটার জল ভেঙে যাওয়ার পর মোটর ভ্যানে চাপানো হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, হাসপাতালে পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোগীকে কিছুটা আগে আনা হলে বাঁচানো যেত। এরপরেই পরিবারের লোকজন ক্ষোভে ফেটে পড়েন। মৃতের মেয়ে সুদীপা হালদার বলেন, আমাদের বাড়িতে এখনও জল জমে। বাবাকে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারিনি। তাই মৃত্যু হল। জল বাড়ির উঠোনে থাকায় দেহ বাড়িতে ফেরানো যায়নি। এনিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপি নেতা বিপ্লব হালদার বলেন, বুস্টার পাম্প বসিয়ে কি লাভ হল জানি না। যে এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে সেখানেও পাম্প বসেছে। কিন্তু একাধিক পরিবার এখনও জলমগ্ন। হাবড়ার বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, এলাকায় পাম্প আছে। আগের থেকে জল অনেকটাই কমে গিয়েছে। তবে, যেটুকু শুনেছি ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। আর সেই কারণেই মৃত্যু হয়েছে। জল পেরিয়ে রোগী নিয়ে যাওয়ার জন্য মৃত্যু হয়েছে, এই তথ্য ভুল।