নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: প্রতিবেশী জেলাগুলিতে একের পর এক নতুন সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা হয়ে গেলেও এখনও অপেক্ষার প্রহর গুণছে নদীয়া দক্ষিণ। রাজ্য নেতৃত্বের দিকে ‘তীর্থের কাকের’ মতো তাকিয়ে রয়েছেন রানাঘাট সংগঠনিক জেলার তৃণমূল কর্মীরা। উৎসবের মরশুম শেষ হতে না হতেই দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেছে ছাব্বিশের ভোট। এমন সময়ে নতুন জেলা কমিটির ঘোষণায় দেরি হওয়ায় তৃণমূলের নিচুতলার একাংশে দেখা দিয়েছে হতাশা।
তৃণমূলের কাছে নদীয়া দক্ষিণ, অর্থাৎ রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা বরাবরই চ্যালেঞ্জের। সাংসদ থেকে শুরু করে একাধিক বিধানসভা আসনই বর্তমানে বিজেপির দখলে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে একটিও আসনে জয়লাভ করতে পারেনি তৃণমূল। পরবর্তীতে শান্তিপুর উপনির্বাচনে ঘুরে দাঁড়ায় দল। আবার ২০২৪ সালে মুকুটমণি অধিকারীর দলবদলের ফলে রানাঘাট দক্ষিণ আসনে উপনির্বাচনে জয় এনে কিছুটা অক্সিজেন পায় ঘাসফুল শিবির। কিন্তু সার্বিকভাবে আগামী ২০২৬-এর ভোটে এই জেলা যে তৃণমূলের কাছে বড় পরীক্ষার মঞ্চ হতে চলেছে। এর মধ্যেই রাজ্যের অধিকাংশ জেলায় সংগঠনের রদবদল সম্পূর্ণ। জেলার মহিলা, যুব, শ্রমিক— সব সংগঠনের সভাপতি থেকে শুরু করে ব্লক ও টাউন প্রেসিডেন্টদের নাম ঘোষণা হয়েছে। কিন্তু সেই তালিকায় জায়গা হয়নি নদীয়া দক্ষিণের। ফলে জেলার কর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন— কবে আসবে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের নাম?
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, সংগঠনগতভাবে তুলনামূলক দুর্বল হওয়ায় রানাঘাট জেলায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে রাজ্য নেতৃত্ব। নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই এখানে বাড়তি বিবেচনা করে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। দলের এক নেতার কথায়, ‘আগামী ভোটে ভুলের পুনরাবৃত্তি চাই না। তাই নেতৃত্ব বাছাইয়ে অতিরিক্ত সময় নিচ্ছে রাজ্য।’ সূত্রের খবর, বেশ কিছু ব্লক ও টাউন প্রেসিডেন্ট পদে বড়সড় পরিবর্তন হতে পারে। কয়েকজন হেভিওয়েট নেতার পরিবর্তে আসতে পারেন নতুন মুখ। সেক্ষেত্রে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যেতে পারে। পাশাপাশি পুরনো কর্মীদের ক্ষমতায় ফিরিয়ে এনে সংগঠনকে চাঙ্গা করার পরিকল্পনা রয়েছে শীর্ষ নেতৃত্বের। দলীয় সূত্রের দাবি, মাঠ পর্যায়ে নিষ্ক্রিয় বা দলবিরোধী ভূমিকা নেওয়া কয়েকজন নেতাকে সরানোর বিষয়েও রাজ্য নেতৃত্ব গুরুত্ব দিচ্ছে। এই বিষয়ে রানাঘাট সংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘নিচুতলার কর্মীদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আমরা প্রবাদেই জানি, শেষ ভালো যার সব ভালো তার। সময় লাগছে কারণ এবার আমরা বাড়তি বিবেচনা করছি। গত কয়েকটি নির্বাচনে আমাদের ফল আশানুরূপ হয়নি, তাই সেই ভুল এড়াতে সময় নিয়ে এগচ্ছি। কিছু জায়গায় পরিবর্তন আসবে। নতুন নামও ঘোষিত হবে শীঘ্রই।’ তৃণমূলের অভ্যন্তরেই এখন জল্পনা, দেরিতে হলেও এবার নদীয়া দক্ষিণে কেমন রূপে সাজানো হবে জেলা সংগঠন? নতুন মুখের ভরসায় ঘাসফুল কি ফের হারানো জমি পুনরুদ্ধার করতে পারবে? উত্তর লুকিয়ে ছাব্বিশের ভোটে।