Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খাতড়া মহকুমার তালডাংরা-ইন্দপুরে পানীয় জল প্রকল্পে ঢিলেমি, ক্ষোভ

খাতড়া মহকুমার তালডাংরা-ইন্দপুরে পানীয় জল প্রকল্পে ঢিলেমি, ক্ষোভ
  • ২৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: খাতড়া মহকুমার তালডাংরা-ইন্দপুর পানীয় জল প্রকল্পে ঢিলেমির অভিযোগ উঠেছে। দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থাকে সময়সীমা বেঁধে দিল জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর (পিএইচই)। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে ওই সংস্থাকে মুকুটমণিপুর জলাধারে প্রকল্পের ‘ইনটেক’ (উত্তোলন) ও ‘ট্রিটমেন্ট’ (শোধন) প্ল্যান্টের কাজ শেষ করতে হবে। তা না হলে ওই ঠিকাদার সংস্থাকে বরখাস্ত করা হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সোমবার কলকাতায় জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই এব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই প্রকল্প রূপায়িত হলে ৮০ হাজার পরিবার পরিস্রুত পানীয় জল পাবে। ২০১৯ সালে প্রকল্পের টেন্ডার হয়। ফলে পানীয় জলের জন্য টানা ছ’বছর ধরে প্রায় চার লক্ষ মানুষ অপেক্ষা করছেন। বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন তার আগে ছাতনা ও তালডাংরা, জেলার দুটি বিধানসভা এলাকায় জল না পৌঁছলে ভোটবাক্সে প্রভাব পড়তে পারে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। সেই কারণে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর ও প্রশাসনের উপরেও দ্রুত প্রকল্প রূপায়ণের চাপ রয়েছে বলে ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত। 

Advertisement

জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের সুপারিন্টেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার তথা এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের (এডিবি) আর্থিক সহায়তায় রূপায়িত জল প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক  চম্পক ভট্টাচার্য বলেন, ২০১৯ সালে টেন্ডার হলেও জমিজটের কারণে প্রকল্পের কাজ শুরু হতে দু’বছর দেরি হয়। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। তিন বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। তবে কাজের অগ্রগতি আমাদের ভরসা জোগাতে পারছে না। সেই কারণে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদার সংস্থাকে বলা হয়েছে। তারমধ্যে কাজ শেষ না করলে ঠিকাদার সংস্থাকে বরখাস্ত করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা সমর পাত্র, দিব্যেন্দু মণ্ডল বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে পরিস্রুত পানীয় জলের জন্য অপেক্ষা করছি। অবিলম্বে ঢিলেমি কাটিয়ে বাড়ি বাড়ি জল সরবরাহের জন্য পিএইচই কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগী হতে হবে। তা না হলে গরমে জলকষ্ট তীব্র আকার ধারণ করবে। 
জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের অর্থানুকূল্যে ১৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে খাতড়া মহকুমার তালডাংরা ও ইন্দপুর ব্লকের জন্য ওই জল প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাঁকুড়া জেলার মধ্যে ওই দুই ব্লক অন্যতম খরাপ্রবণ হিসাবে চিহ্নিত রয়েছে। ফলে জল প্রকল্প রূপায়িত হলে খাতড়া মহকুমার ওই দুই ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দারা উপকৃত হবেন। ওই প্রকল্পকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। তারমধ্যে জল উত্তোলন ও শোধনের পরিকাঠামো নির্মাণের দায়িত্ব একটি সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে। ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছে দেওয়ার জন্য অন্য একটি সংস্থা কাজ করছে। প্রথম সংস্থার কাজ নিয়েই পিএইচই কর্তৃপক্ষ অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। কারণ মুকুটমণিপুর জলাধার থেকে জল উত্তোলন ও শোধনের পরিকাঠামো না গড়ে উঠলে গ্রামে গ্রামে পাইপ পেতেও কোনও কাজ হবে না। সেক্ষেত্রে পরিস্রুত জল বাসিন্দারা পাবেন না। ফলে ৮০ হাজার পরিবার পানীয় জল থেকে বঞ্চিত হবেন।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ