Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হকারি পেশা হলেও নেশা কবিতা, বই লিখলেন দেগঙ্গার শ্যামল দাঁ

পেশা আর নেশার মাঝখানে দাঁড়িয়ে দৈনন্দিন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন দেগঙ্গার কলাপোল গ্রামের বাসিন্দা শ্যামল দাঁ।

হকারি পেশা হলেও নেশা কবিতা, বই লিখলেন দেগঙ্গার শ্যামল দাঁ
  • ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ট্রেনে হকারি করাই পেশা। কিন্তু কবিতা লেখা তাঁর নেশা। পেশা আর নেশার মাঝখানে দাঁড়িয়ে দৈনন্দিন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন দেগঙ্গার কলাপোল গ্রামের বাসিন্দা শ্যামল দাঁ। জীবনের নিত্য লড়াই থেকে তিনি শব্দ কুড়িয়ে আনেন। ট্রেনের কামরাই তাঁর কবিতার সবচেয়ে বড় কর্মশালা। এবার কলকাতা বইমেলায় তাঁর লেখা বই প্রকাশিত হয়েছে। ছাপোষা গ্রাম থেকে তাঁর লড়াই আজ সবার জানা।

Advertisement

শ্যামল দাঁ’র বেড়ে ওঠা অভাবের সংসারে। ছোটোবেলায় নতুন জামাকাপড়ের স্বপ্ন অনেক সময়ই পূরণ হত না। তিনি যখন অষ্টম শ্রেণিতে, সেবার পুজোয় নতুন পোশাক না পাওয়ার যন্ত্রণা থেকেই জন্ম নিয়েছিল তাঁর প্রথম কবিতা ‘দুখীর পূজো’। সেখান থেকেই শব্দের সঙ্গে তাঁর আজীবনের সম্পর্ক শুরু। কবিতা তাঁর কাছে বিলাস নয়, বেঁচে থাকার এক অবলম্বন। প্রতিদিন সকাল হলেই জামাকাপড় ভরতি ব্যাগ কাঁধে সাইকেল নিয়ে পৌঁছে যান গুমা রেল স্টেশনে। সেখান থেকে বারাসত-বনগাঁ লাইনের ট্রেনে চেপে শুরু হয় তাঁর রোজকার হকারি। ট্রেনের কামরায় ঘোরাঘুরি, যাত্রীদের মুখ, কথোপকথন, ক্লান্তি, হাসি, অব্যক্ত কষ্ট এই সবই শ্যামলের কবিতা লেখার রসদ। সময় পেলে প্ল্যাটফর্মে বসেই কিংবা রাতে বাড়ি ফিরে সেই অভিজ্ঞতাগুলি শব্দে বুনে নেন তিনি। ট্রেনে যাতায়াতই তাঁর সবচেয়ে বড় কবিতার খাতা। বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিন ও প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থে নিয়মিত প্রকাশিত হয় শ্যামল দাঁর কবিতা। পাশাপাশি তিনি পেয়েছেন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য সম্মান। তবুও শ্যামলবাবু আজও ট্রেনে হকারি করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। কবিতাকে সঙ্গী করেই এগিয়ে চলেছেন জীবনের পথে। ট্রেনের শব্দ, রেলের লাইনের পাশে ছুটে চলা গ্রাম-শহর, যাত্রীদের নীরব গল্প— এসবের মধ্যেই শ্যামলবাবু খুঁজে পান তাঁর কবিতার পৃথিবীকে। এক কম্পার্টমেন্ট থেকে অন্য কম্পার্টমেন্টে জামাকাপড় ফেরি করেন তিনি। ঘরে ফেরেন বিকালে। মাঝে খাওয়া দাওয়া স্টেশনেই। আগের থেকে বাড়ির অবস্থা কিছুটা বদলালেও শ্যামলবাবু অবশ্য রয়েছেন আগের মতোই। এখনও তিনি ভালোবেসে কবিতা লেখেন। মাঝেমধ্যে ট্রেনের যাত্রীদের ছড়াও শোনান। তাঁর এই প্রতিভা দেখে সকলেই অবাক। ২০২৪ সালে কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত হয় শ্যামল দাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘খালের খেয়া’। পাঠক ও সাহিত্য মহলে নজর কেড়েছিল এই বই। পরের বছর ২০২৫-এ প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘উৎস’ এবং পাশাপাশি একটি ভ্রমণ বিষয়ক বই ‘পৃথিবীর স্বর্গ’। এবার ২০২৬ সালে বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে কবিতার বই ‘আমিই সেই মেয়ে’। শ্যামলবাবু বললেন, ‘আমি অল্প বয়স থেকেই কবিতা লিখি। সারাদিনের হকারি করে যা অভিজ্ঞতা হয়, তা লিখে রাখি ডায়েরিতে। পরে তা দিয়েই কবিতা বানাই। কখনও রাতে আবার কখনওবা প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়েই লিখে রাখি। যতদিন বাঁচব এভাবেই চালিয়ে যাব।’  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ