নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১০০ দিনের কাজ বহাল রাখা এবং বাংলার বকেয়া অর্থ পরিশোধ করা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত তৃণমূল শিবির। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণকে সামনে রেখে তৃণমূল দাবি করেছে, ভোটে হার, কোর্টেও হার বাংলা-বিরোধী জমিদারদের। একইসঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে সিপিএম এবং কংগ্রেসও। তবে পালটা বিজেপি সামনে এনেছে ১০০ দিনের কাজে হওয়া দুর্নীতির বিষয়টিকে।
১০০ দিনের কাজে টাকা দিচ্ছে না কেন্দ্র, এই অভিযোগ তুলে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে তৃণমূল। এই ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার কেন্দ্রের কাছে দাবি করেছেন, প্রাপ্য অর্থ প্রদানের জন্য। প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠিও পাঠিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু কেন্দ্র রাজ্যের টাকা মেটানোর বিষয়ে উচ্চবাচ্য করেনি। পরবর্তীতে জব কার্ড হোল্ডারদের নিয়ে কলকাতা থেকে দিল্লি পর্যন্ত আন্দোলনকে নিয়ে গিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজভবনের সামনে ধরনাও দিয়েছিলেন তিনি। মমতা এবং অভিষেকের সেই লড়াইয়ের সুফল এদিন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের মধ্যে এল বলেই মনে করা হচ্ছে। অভিষেক সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘বহিরাগত বাংলা-বিরোধীদের আরও একটি শোচনীয় পরাজয় হল! সুপ্রিম কোর্টের রায় বিজেপির মুখে গণতান্ত্রিক চপেটাঘাত। বিজেপি যখন রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ হল, তখন ওরা বঞ্চনাকে অস্ত্র করল। ওরা বাংলার উপর অথনৈতিক অবরোধ তৈরি করল। কিন্তু এতসবের পরেও বাংলা হার মানেনি। চলবে না অন্যায়, টিকবে না ফন্দি, জনগণের আদালতে হতে হবে বন্দি! জয় বাংলা।’ শুধু তাই নয়, বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অভিষেকের তোপ, যদি বাংলার পাওনা পরিশোধ করা না হয়, তাহলে দিল্লিতে আরও একবার মেগা ধরনা হবে।
১০০ দিনের কাজের এই লড়াই ও সাফল্যকে হাতিয়ার করেই গ্রামে গ্রামে প্রচারের কর্মসূচি নিতে চলেছে তৃণমূল। ধাক্কা খেয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের ব্যাখ্যা, ১০০ দিনের কাজে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি ধরা পড়েছিল। সেটা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণেও উঠে এসেছে। আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য, প্রকৃত উপভোক্তার কাছে টাকা পৌঁছাক এবং দুর্নীতি বন্ধ কর। ১০০ দিনের কাজ চালু হওয়ার বিষয়ে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু দুর্নীতি বন্ধ করতেই হবে। আর কড়া ব্যবস্থাও নিতে হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে। সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়কে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। বাংলার গরিব মানুষের টাকা আটকাতে কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল। আগামী ৫ নভেম্বর খেতমজুর সমিতির বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে আগামীর আন্দোলনের রূপরেখা ঠিক হবে।
কংগ্রেস মুখপাত্র সৌম্য আইচ রায় বলেন, দুর্নীতি হয়ে থাকলে তদন্ত হোক। কিন্তু গরিব মানুষের টাকা আটকে রাখতে পারে না কেন্দ্র। এটা বিজেপির পৈতৃক সম্পত্তি নয়। -ফাইল চিত্র