নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: গোপালগঞ্জের বিধায়ক প্রমোদ কুমার প্যাটেল সরাসরি বলেছেন, আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হয়েছে। বন্ধুরাই পিছনে ছুরি মেরেছে। নীরজ কুমার বলেছেন, কাজ করেও আমাদের দল পরাজিত হল কেন? আমরা তো এনডিএ জোট হিসাবে আছি। সুতরাং এনডিএকেও ভাবতে হবে। কোনও বিধায়ক আবার বলেছেন, শক্তিশালী হাত যদি না থাকে, তাহলে হার কেন হল? বিহারে সদ্য সমাপ্ত বিধান পরিষদ নির্বাচনের ফলাফলকে ঘিরে এধরনেরই প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে বিজেপির জোট শরিক জেডিইউর অন্দরে। সবমিলিয়ে এনডিএ শিবিরে প্রবল সংঘাতের পরিবেশ। কারণ চার আসনে লড়াই করে তিন আসনেই হেরেছে নীতীশ কুমারের জেডিইউ। আর এর নেপথ্যে সরাসরি বিজেপির হাত দেখতে পাচ্ছে জেডিইউ। বৃহস্পতিবার পাটনায় ছিল দলের সমীক্ষা বৈঠক। সেখানেই হাজির হয়েছিলেন চার প্রার্থী। বৈঠকে বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন একের পর এক নেতা, মন্ত্রী, বিধায়ক।
দুই আসনে জেডিইউকে পরাজিত হতে হয়েছে দুই নির্দল প্রার্থীর কাছে। তিরহুত (স্নাতক) কেন্দ্র থেকে জিতেছেন বংশীধর ব্রজবাসী। সারণ (শিক্ষক) কেন্দ্র থেকে জয়ী রঘু রাজ। নীতীশকুমারের দলের অভিযোগ, তাঁরা নির্দল প্রার্থী নামেই। আদতে বিজেপি সমর্থন দিয়েছে পিছন থেকে। জোটসঙ্গী জেডিইউকে হারানোর গেমপ্ল্যান ছিল বিজেপির। সেটাই হয়েছে। কারণ জয়ের পরই এই দুই নির্দল ঘোষণা করেন, তাঁরা যোগ দিচ্ছেন বিজেপিতে। মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর এক অনুষ্ঠানেও এই দুই জয়ী নির্দল বিধায়ক যোগ দেন। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে নীতীশের দলের নেতা বিধায়ক ও মন্ত্রীরা প্রশ্ন করেন, বিজেপি কি জেডিইউ খতম অভিযানে নেমেছে? রাজ্যে জেডিইউ যত দুর্বল হবে, ততই বিজেপি দখল করবে ভোটব্যাঙ্ক এবং বিভিন্ন এনডিএ জোটের এলাকা। প্রথমে নীতীশকে সরিয়ে দেওয়া হয় মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে। তারপর ক্রমেই জেডিইউর হাত থেকে সরকারের নানাবিধ সিদ্ধান্ত ও নীতি নির্ধারণের ক্ষমতা নিয়ে নেওয়া হবে। এমনই অভিযোগ তুলে বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়ে দল। এমনকী প্রশান্ত কিশোরের উত্থান কিংবা পাটনার একটি কেন্দ্র থেকে তেজস্বী যাদবের জয়কেও সন্দেহের চোখে দেখছে নীতীশের দল। এক্ষেত্রেও বিজেপির হাত আছে বলে সন্দেহ তাদের।
এদিকে আধার কার্ড বাতিল করা নিয়ে যে সিদ্ধান্ত হতে চলেছে, সেটি নিয়েও এনডিএর ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। আবার বায়োমেট্রিক করা হবে, আধার বাতিল করে ভোটার কার্ডকেই সরকারি প্রকল্প সহায়তা পাওয়ার যোগ্য নির্ণায়ক করা হচ্ছে, গত শুক্রবার একটি ওয়ার্কশপে এরকম সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিং । প্রসঙ্গত তিনি জেডিইউ এমপি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা নিয়ে দলের মধ্যে তাহলে কেন ক্ষোভ দেখা দিয়েছে? কারণ, তাঁর সঙ্গে দলের এক সর্বোচ্চ সারির নেতার দূরত্ব রয়েছে। তারই ফলশ্রুতি হল আধার নিয়ে খোদ রাজীব রঞ্জন সিং ঘোষণা করলেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ ব্যক্ত করছেন দলেরই কিছু নেতা-বিধায়ক। এতে মানুষের মধ্যে আবার অস্থিরতা হবে। আবার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছে জেডিইউ। ফলে বিহারে জেডিইউর অভ্যন্তরে এবং একইসঙ্গে এনডিএ জোটের ফাটল ক্রমশ বাড়ছে।



