মায়ামি: টানা ১৪ বছরের দীর্ঘ পথ চলা। এই পর্বে টানা দু’টি বিশ্বকাপ ফাইনাল। তার মধ্যে একবার বিশ্বসেরার খেতাব। এমন বর্ণময় অধ্যয়ের পরিসমাপ্তিটা অবশ্য সুখের হল না দিদিয়ের দেশঁর। মার্কিন মুলুকে কাপ যুদ্ধের লড়াইয়ে সেমি-ফাইনালে হেরে আগেই স্বপ্নভঙ্গ হয় ফ্রান্সের। এবার তৃতীয় স্থানাধিকারের লড়াইয়েও ইংল্যান্ডের কাছে বশ মানলেন এমবাপেরা। সেই সঙ্গে ফ্রান্স ফুটবলে থামল দেশঁর পথ চলা। তবে বিদায়বেলায় হারের পাশাপাশি একরাশ বিতর্কই সঙ্গী বিশ্বকাপ জয়ী কোচের। শনিবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচের মধ্যেই দলের একাধিক ফুটবলার কোচের বিরুদ্ধে এমন আচরণ করলেন, যা কাম্য নয়। দেশঁ অবশ্য বিদায়বেলাতেও ফুটবলারদের পাশেই দাঁড়ালেন। সেই সঙ্গে জানিয়ে দিলেন, ফরাসি ফুটবলের ভবিষ্যৎ হয়ে উঠুক আরও গৌরবময়।
শনিবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথমার্ধেই চার গোলে পিছিয়ে পড়ে ফ্রান্স। ছেলেদের এমন হতশ্রী পারফরম্যান্সে বেশ বিরক্ত দেখায় কোচ দেশঁকে। হাইড্রেশন ব্রেকের সময় রায়ান চেরকিকে কিছু নির্দেশ দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। তবে এই তরুণ মিডিও কোচের কথা উপেক্ষা করেন। এই নিয়ে ম্যাচ শেষে দেশঁ জানান, ‘জাতীয় দলের কোচের পদে আমার যাত্রা এখানেই শেষ হল। আজকের দিনে আমি কাউকে কাঠগড়ায় তুলতে চাই না। তবে তৃতীয় স্থানাধিকার ম্যাচে বেশ কিছু ফুটবলারের আচরণ আমায় কষ্ট দিয়েছে। তারা প্রত্যেকেই দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছে। ফলে এই পরাজয়টা ফ্রান্স ফুটবলের। জানি, বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের যন্ত্রণা সকলের মনেই রয়েছে। তাই বলে নিজেদের দায়িত্বকে এভাবে অবহেলা করা উচিত নয়।’
বিশ্বকাপের পরই ফ্রান্স দলের দায়িত্ব নেবেন জিনেদিন জিদান। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে দেশঁর নেতৃত্বেই কাপ জিতেছিলেন জিজু। প্রাক্তন সতীর্থর হাত ধরে জাতীয় দল আরও এগিয়ে যাবে বলেই মত বিশ্বকাপ জয়ী কোচের। দেশঁর সংযোজন, ‘জাতীয় দল থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা আগেই নিয়েছিলাম। ফলে শেষ আট সপ্তাহ সময়টা আমার কাছে খুবই স্পেশাল ছিল। দীর্ঘ যাত্রায় আমার পাশে থাকা সকলকে ধন্যবাদ। ফ্রান্স দলে একাধিক তরুণ ফুটবলার রয়েছে, যারা আগামী দিনে দেশকে আরও সাফল্য এনে দেবে। আমি নিশ্চিত, নতুন কোচ অনেক সাফল্য পাবেন।’