আগ্রা: ভারত জিততেই শুরু সেলিব্রেশন। আতসবাজির রোশনাইতে রাতের আকাশ লাল। দেদার বিলোচ্ছে মুঠো মুঠো লাড্ডু। অবাক চোখে সেদিকে তাকিয়েছিলেন ভগবান শর্মা। চোখের কোণ জলে চিকচিকে। ঘোর কাটছে না। কোনওরকমে বললেন, ‘এ তো কিছুই না। দীপ্তিকে ঘরে ফিরতে দিন। তারপর আসল উৎসব শুরু। অনেক পরিশ্রমের দাম পেল মেয়েটা।’আবেগে বুজে আসে গর্বিত পিতার কণ্ঠ। দীপ্তির মা’কে ঘিরে ততক্ষণে প্রতিবেশীদের জয়ধ্বনি শুরু। সুশীলা শর্মা বললেন, ‘গোটা দেশ আনন্দ করছে। দীপ্তির জন্য আমরা গর্বিত।’ বাজনা, বাজির শব্দে ঢাকা পড়ে যায় সুশীলার কথা।
বিশ্বকাপে হারের হ্যাটট্রিকের পর ট্রফি জয়। হরমনপ্রীতদের সাফল্য যেন রুপোলি পর্দার থ্রিলারকে হার মানায়। টুর্নামেন্টের সেরা দীপ্তি শর্মা। তাঁকে নিয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ সবাই। হবে না-ই বা কেন? ফাইনালে হরমনপ্রীতদের উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ভারতের মিডল অর্ডার। ইস্পাতকঠিন নার্ভ নিয়ে রুখে দাঁড়ান দীপ্তি। তাঁর ৫৮ রান পরিস্থিতির বিচারে সেঞ্চুরির চেয়েও দামি। তারপর বল হাতে প্রোটিয়া ব্যাটিং দুমড়ে দিলেন দীপ্তি। মাত্র ৩৯ রান খরচ করে তুলে নেন ৫ উইকেট। টুর্নামেন্টে ২১৫ রান করার পাশাপাশি তাঁর প্রাপ্তি ২২টি উইকেট। এমন পারফরম্যান্সের পর অন্য কাউকে বিশ্বকাপের সেরা বাছাই করা সম্ভব ছিল না। দীপ্তিদের লড়াই আজ লোকের মুখে মুখে ঘুরছে। এমনকী নভি মুম্বইয়ে মেগা ফাইনালের আগে সাফল্য কামনায় মন্দিরে পুজোও দেন অনুগামীরা। দীপ্তিদের সঙ্গেই তাই হাসছে গোটা দেশ।