রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। বাবা শিবচরণ ওরাওঁ এবং মা নান্দিয়াকে দিনমজুরি করে সংসারের খরচ জোগাতে হয়। এই চরম দারিদ্র্যও হার মানাতে পারেনি দম্পতির ছোট মেয়ে দীপিকা ওরাওঁকে। আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের বনচুকামারি গ্রাম পঞ্চায়েতের ফোসকাডাঙা সারনা আদিবাসী উচ্চ বিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া মেয়েটি অভাবকে জয় করে ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের মহিলা ফুটবল দলে জায়গা করে নিয়েছে। সে এখন ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের মহিলা ফুটবল দলের অপরিহার্য ফুটবলার। ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের হয়ে এখন কম্বোডিয়ায় এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলতে ব্যস্ত। ক্লাবের হয়ে এই প্রথম তাঁর বিদেশ যাত্রা। দীপিকা কম্বোডিয়ায় খেলতে যাওয়ায় বনচুকামারির ঘরে ঘরে এখন খুশির হাওয়া। উচ্ছ্বাসে ভাসছে ফোসকাডাঙা গ্রাম।
কন্যাশ্রী ফুটবল কাপে সাফল্য পাওয়ার পর দীপিকাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তার খেলা নজর কাড়ে ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের কর্তাদের। তারপরেই দীপিকাকে গত এপ্রিল মাসে ইস্ট বেঙ্গলের কর্তারা ক্লাবের মহিলা ফুটবল দলে সই করান।
ফোসকাডাঙা সারনা আদিবাসী উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশেই দীপিকার বাড়ি। ওই স্কুলের মাঠেই বান্ধবীদের সঙ্গে ফুটবলের প্র্যাকটিস করত সে। কিন্তু বাবা-মার ইচ্ছে ছিল না মেয়ে ফুটবল খেলুক। কারণ, জার্সি বুট কিনে দেওয়ার সামর্থই ছিল না তাঁদের। তারপরেও সবুজ মাঠের হাতছানি উপেক্ষা করতে পারেনি আদিবাসী মেয়েটিকে। দীপিকার মা বলেন, আমরা খুবই গরিব। মেয়ের খেলা চালিয়ে যাওয়া কঠিন ছিল আমাদের পক্ষে। দীপিকাকে অনেকেই সাহায্য করেছিলেন। মানুষের আশীর্বাদে মেয়ে আজ বিদেশে খেলতে গিয়েছে। দিদি প্রিয়া জানান, দীপিকা গত ২২ আগস্ট কম্বোডিয়া গিয়েছে।
দীপিকাদের এই অভাব অনটনে মুশকিল আসান হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ফোসকাডাঙা সারনা আদিবাসী প্রাথমিক স্কুলের পার্শ্বশিক্ষক মহাদেব ওরাওঁ। তিনিই ফোসকাডাঙা এলাকায় ফুটবল খেলতে আগ্রহী গরিব আদিবাসী মেয়েদের ফুটবল, জার্সি ও বুট সহ নানা সরঞ্জাম কিনে দিয়ে সাহায্য করেন। মহাদেব বলেন, গ্রামের গরিব মেয়েদের খেলাধুলোয় সাফল্য দেখলে আনন্দ পাই। সেই ভালোলাগা থেকেই তাদের সাহায্য করি।
দীপিকার প্রশিক্ষক দমকলকর্মী রাজীব আহমেদ বলেন, ছোটবেলায় ফুটবল খেলতাম। সেই ভালোবাসা থেকেই ফোসকাডাঙায় মেয়েদের ফুটবলের কোচিং করাই।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সচিব সঞ্জয় ঘোষ বলেন, কন্যাশ্রী কাপে দীপিকার ভালো খেলা দেখে ইস্ট বেঙ্গল ক্লাব কর্মকর্তারা ওকে সই করান। আমরা ওর জন্য গর্বিত। উত্তরবঙ্গের গর্ব দীপিকা ওরাওঁ।