গভীর রহস্যময় এক শব্দ, দাম্পত্য। সম্পর্কের এক আশ্চর্য যোগ বিয়োগ গুণ ভাগের সমীকরণ। অনন্তকাল ধরে এই সমীকরণের রহস্যময় বৃত্তের মধ্যে ঘুরছে দাম্পত্য। সময়ের ঘূর্ণাবর্তে সংসারের নানাবিধ বিবর্তন হলেও রহস্য রয়ে গিয়েছে রহস্যের গভীরেই। সেই দাম্পত্যের আয়নায় প্রতিবিম্বিত হল সাম্প্রতিক সময়ের দুই কপোত-কপোতীর সংসার আলেখ্য ‘দীপক মল্লার’। উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের রচনা ও অতনু সরকারের পরিচালনায় থিয়েলাইটের নতুন এই নাটক সম্প্রতি মঞ্চস্থ হল অ্যাকাডেমিতে।
সহজ সরল সোজা পথে দাম্পত্য জীবন সত্যি বোধহয় একঘেয়েমি তৈরি করে। সোজা পথের দাম্পত্য হয়ে ওঠে নিরস এক গীতি আলেখ্য। দাম্পত্যে রং, রস না থাকলে সেই দাম্পত্য বর্ণময় হয়ে ওঠে না। তার জন্য চাই টুইস্ট। সংসারে কত উপাদান! ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র মতবিরোধ থেকে দীর্ঘ পথে জমতে থাকা সন্দেহের জগদ্দল দাম্পত্যের টুইস্ট। সোজা পথকে বক্র করে তোলে। কথায় কথায় সংঘাত। যেমন ভজহরি ও দীপিকা। দু’জনের সহজ সরল দাম্পত্য জীবনে থাবা বসায় সমাজমাধ্যম। এক বিছানায় দু’জনে থেকেও কথা নেই কারও মুখে। অন্ধকারে ফোনের আলোয় দেখা যায় দু’জনের মুখের বিভিন্ন অভিব্যক্তি। সন্দেহের আবেশে চোখ ঢুকে পড়ে চ্যাটের গভীরে। আর তাতেই বদলে যায় সংসারের গতিপথ। সংসারের এই আঁকাবাঁকা পথে ভজহরি ও দীপিকার জীবনযাত্রায় বাজতে থাকে দীপক রাগের সুর।
ভজহরির চরিত্রে পরিচালক অভিনেতা অতনু সরকার অনবদ্য। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত করেছেন শম্পা দাস সরকার (দীপিকা)। দু’জনের অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে বাস্তব চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। পার্শ্বচরিত্রে সুপর্ণা চক্রবর্তী (তৃষা), শঙ্কু কুমার দাস (হিরা), স্যামসন মাথুর চক্রবর্তীর পারফরম্যান্স নাটককে এক সূত্রে বাঁধতে সাহায্য করেছেন। নাটকের মঞ্চ পরিকল্পনার মধ্যে আধুনিক ভাবনা নজর কাড়ে। সৌমেন চক্রবর্তীর আলো ও স্যামসন মাথুর চক্রবর্তীর আবহ পরিকল্পনা নাটকীয় মুহূর্তগুলিকে সাজিয়ে তুলতে সাহায্য করেছেন।



