রকমারি আলপনা দেবেন কীভাবে? জেনে নিন সহজ কৌশল।
আলপনা এঁকে তোমার সাজিয়ে দিলাম পট/ আমের পল্লব দিলাম জলভরা ঘট...।
লক্ষ্মীপুজোর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে আলপনা। লাল মেঝে হোক বা উঠোন, চৌকাঠ থেকে ঘরের কোনায় কোনায়— সাদা আলপনায় সেজে ওঠে পুরো বাড়ি। কোজাগরি লক্ষ্মীপুজোতে আলপনা দেওয়া চিরকালীন প্রথা। চালের গুঁড়ো বা খড়ি মাটি দিয়ে আঁকা নানা নকশায় আহ্বান জানানো হয় দেবীকে। আলপনা আঁকতে খুব দক্ষ শিল্পী হওয়ার প্রয়োজন নেই। সহজ কয়েকটি কৌশল জানা থাকলেই লক্ষ্মীপুজোয় নিজের হাতে সাজিয়ে তোলা যায় বাড়ির মেঝে।
কী কী প্রয়োজন?
• আলপনা আঁকার জন্য প্রয়োজন চালের গুঁড়ো, জল, ছোটো বাটি, তুলি অথবা পরিষ্কার কাপড়ের টুকরো। অনেকে খড়িমাটি ভিজিয়েও আলপনা আঁকেন। আবার তুলির পরিবর্তে আঙুল দিয়েও আঁকা যায় নানা নকশা। এখন বাজারে আলপনা আঁকার জন্য সাদা রং, রেডিমেড স্টেনসিল এবং বিভিন্ন ধরনের রং পাওয়া যায়। যাঁরা সহজে ও অল্প সময়ে আলপনা আঁকতে চান, তাঁদের জন্য স্টেনসিল বেশ উপযোগী। কিনতে পাওয়া যায় নানা স্টিকারও। তবে ঐতিহ্যবাহী আলপনার স্বাদ পেতে চালের গুঁড়ো বা খড়িমাটি দিয়ে আলপনা আঁকতে পারেন। এর জন্য চালের গুঁড়ো বা খড়ির সঙ্গে অল্প অল্প করে জল মিশিয়ে এমন একটি মিশ্রণ তৈরি করতে হবে, যাতে তা খুব বেশি পাতলা বা ঘন না হয়।
ধাপে ধাপে
১. পদচিহ্ন আলপনা: যে চৌকাঠ পেরিয়ে দেবী ঘরে প্রবেশ করবেন, সেখানে আঁকতে হয় মা লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ। বাড়ির প্রবেশপথ থেকে পুজোর জায়গা পর্যন্ত এঁকে নিন ছোটো ছোটো পায়ের ছাপ। কীভাবে? পায়ের ছাপ আঁকার অনেক পন্থা রয়েছে। তবে ইংরেজি এস অক্ষরের ধাঁচে আঁকা সবচেয়ে সহজ। ইংরেজিতে এস অক্ষর লিখে উপরের দিকে ছোটো ছোটো বিন্দু দিয়ে এঁকে নিন আঙুল। তাহলেই তৈরি হয়ে যাবে মায়ের পদচিহ্ন।
২. পদ্মফুলের আলপনা: মা লক্ষ্মী পদ্মাসনা। তিনি কমলা। তাই পদ্মফুল তাঁর পুজোর অন্যতম প্রধান উপকরণ। আলপনাতেও পদ্মের নকশা অত্যন্ত জনপ্রিয়। প্রথমে একটি ছোটো বৃত্ত এঁকে তার চারপাশে পাপড়ির আকারে কয়েকটি বাঁকানো রেখা টেনে নিন। বাইরের দিকে আরও কয়েকটি পাপড়ি যোগ করুন। এভাবেই ফুটে উঠবে পদ্মফুলের নকশা। মাঝখানে ছোটো বৃত্ত বা বিন্দু দিয়ে এই নকশাকে আরও সুন্দর করে সাজিয়ে নেওয়া যায়।
৩. ধানের শিষ ও লক্ষ্মীর ঝাঁপি: দেবী লক্ষ্মী সমৃদ্ধি ও শস্যের প্রতীক। তাই ধানের শিষের নকশা আঁকতে পারেন। আবার লক্ষ্মীঝাঁপির নকশাও ঘরের আলপনাকে আলাদা সৌন্দর্য দেয়।
৪. মৎস্য: অনেক বাড়িতে লক্ষ্মীপুজোতে ইলিশ মাছ খাওয়ার প্রথা রয়েছে। সেই ছাপ পড়ে আলপনাতেও। একটি বড়ো বৃত্তের মধ্যে মাছের নকশা এঁকে তাকে বিভিন্ন ডিজাইনে সাজিয়ে নিন। তাহলে মৎস্য নকশা তৈরি।
৫. শঙ্খ: আলপনায় শঙ্খের নকশা আঁকতে পারেন। এছাড়াও যাঁরা নতুন আলপনা আঁকছেন, তাঁরা ছোটো ছোটো বৃত্ত, বিন্দু, ঢেউ খেলানো রেখা, পাপড়ির মতো নকশা আঁকুন। সহজে আলপনা আঁকা যাবে।
লক্ষ্মীপুজোর আলপনায় কেবল নান্দনিকতা নয়, জড়িয়ে রয়েছে বাঙালির বিশ্বাস, ঐতিহ্য। বাড়ির প্রবেশপথ, ঠাকুরঘর কিংবা পুজোর আসনের সামনে আলপনা আঁকার রীতি বহু দিনের। অঞ্চল ও পরিবারভেদে আলপনার নকশা এবং আঁকার নিয়মেও দেখা যায় নানা বৈচিত্র। তাই লক্ষ্মীপুজোয় রেডিমেড সাজসজ্জার বদলে নিজের হাতেই আলপনায় সাজিয়ে তুলুন ঘর। ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় উৎসব হয়ে উঠুক আরও সুন্দর। লক্ষ্মী ঘরে থাকুক সারা জীবন।
শান্তনু দত্ত



