Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুর্গাপুরে ১২দিন ধরে নিখোঁজ বৃদ্ধার পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার

দুর্গাপুরে ১২দিন ধরে নিখোঁজ বৃদ্ধার পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার
  • ১৩ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: নিখোঁজ হওয়ার ১২দিন পর বৃদ্ধার পচাগলা দেহ উদ্ধারে রহস্য দানা বেঁধেছে। বৃহস্পতিবার দুর্গাপুর স্টিল টাউনশিপে মার্কনি অ্যাভিনিউ এলাকায় এঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। মায়া মুখোপাধ্যায়(৬৯) নামে ওই বৃদ্ধা টাউনশিপের তিলক রোডের বাসিন্দা ছিলেন। পুলিস জানিয়েছে, পারিবারিক অশান্তির জেরে ওই বৃদ্ধা বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। এমনকী, অশান্তির জেরে তাঁর ছেলেও বিষপান করেছিলেন। যদিও চিকিৎসার পর বৃদ্ধার ছেলে সুস্থ। দুর্গাপুর থানার বি-জোন ফাঁড়ির পুলিস বৃদ্ধার দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

Advertisement

আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিস কমিশনারেটের এসিপি(দুর্গাপুর) সুবীর রায় বলেন, ময়নাতদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
মায়াদেবীর স্বামী দীপ্তিধর মুখোপাধ্যায় দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টের(ডিএসপি) অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ছিলেন। ২০১৯সালে তাঁর মৃত্যু হয়। বৃদ্ধা মায়াদেবী, তাঁর একমাত্র ছেলে দীপঙ্কর মুখোপাধ্যায় ও পুত্রবধূর সঙ্গে ডিএসপি’র আবাসনে থাকতেন। দীপঙ্করবাবু পেশায় সিসি ক্যামেরা বিক্রেতা। পুলিস জানিয়েছে, আর্থিক অনটনের জেরে ওই পরিবারে প্রায় রোজই অশান্তি লেগে থাকত। অনটনের কারণে পরিবারের লোকজন অভুক্ত থাকতেন। গত ৩১মে অশান্তি চরম আকার নিলে মায়াদেবী ক্ষুব্ধ হয়ে আবাসন ছেড়ে চলে যান। ছেলেকে বলে যান, ‘এবার আমার মরা মুখ দেখবি’। দীপঙ্করবাবুও সেসময় আত্মহত্যার জন্য বিষপান করেন। তাঁকে তড়িঘড়ি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থেকে সুস্থ হয়ে দু’দিন পর তিনি আবাসনে ফেরেন। কিন্তু তাঁর মা আর ফেরেননি। দীপঙ্করবাবু জানান, বিভিন্ন জায়গায় মায়ের খোঁজ করেছিলেন। পুলিসকেও বিষয়টি জানিয়েছিলেন। কিন্তু মায়াদেবীর খোঁজ মেলেনি।
এদিন সকালে মার্কনি অ্যাভিনিউয়ের ১৪নম্বর স্ট্রিটের ধারে ঝোপঝাড়ে এক বৃদ্ধার পচাগলা দেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিস এসে তদন্ত করে জানতে পারে, সেটি মায়াদেবীর দেহ। কিন্তু বৃদ্ধার মৃত্যুর কারণ নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে।
মার্কনি এলাকার বাসিন্দা ছোটন মণ্ডল ও রণজিৎকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যেখান থেকে দেহ উদ্ধার হয়েছে, সেই জায়গাটা ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। বাইরের লোকজন রাতের অন্ধকারে কুকুর, বেড়ালের দেহ ফেলে যায়। ফলে সারাবছর সেখান থেকে জীবজন্তুর পচাগলা দেহাংশের দুর্গন্ধ ছড়ায়। সেজন্য প্রথমে আমরা বৃদ্ধার পচাগলা দেহ পড়ে থাকার বিষয়টি টের পাইনি। এদিন সকালে কয়েকজন যুবক ছাগল চরাতে গিয়ে মৃতদেহ দেখতে পান।
বৃদ্ধার ছেলে দীপঙ্করবাবু বলেন, আমি ঋণগ্রস্ত হওয়ায় বাড়িতে অশান্তি লেগেই থাকত। ওইদিনও অশান্তি হয়েছিল। মা আমাকে ‘মরা মুখ দেখবি’ বলে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। আমিও বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলাম। এদিন পুলিস আমাকে ঘটনার খবর দেয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ