Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লালগোলা শাখায় ইএমইউ চালানোর সিদ্ধান্ত মুলতুবি, চলবে মেমু ট্রেনই, খুশি নিত্যযাত্রীরা

লালগোলা শাখায় ইএমইউ চালানোর সিদ্ধান্ত মুলতুবি, চলবে মেমু ট্রেনই, খুশি নিত্যযাত্রীরা
  • ৪ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: শিয়ালদহ-লালগোলা শাখায় এক্ষুনি ইএমইউ চালানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করছে না রেল। গত সোমবার একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আগের বিজ্ঞপ্তি কার্যকর করা স্থগিত রইল বলে জানায় তারা। অর্থাৎ নিত্যযাত্রী ও সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ ও আন্দোলনের জয় হল। 

Advertisement

সম্প্রতি পূর্ব রেল একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দেয়, শিয়ালদহ ডিভিশনের শিয়ালদহ-লালগোলা শাখায় ১১টি ‘মেমু’ ট্রেন তুলে দিয়ে ইএমইউ ট্রেন চালানো হবে। মেমু ট্রেনে শৌচাগার থাকে। ইএমইউতে সে সুবিধে নেই। তাই যাত্রীদের অসুবিধার কথা ভেবে কৃষ্ণনগর স্টেশনে একাধিক ইএমইউ ট্রেনকে আধঘন্টা পর্যন্ত দাঁড় করানো হবে বলে জানানো হয়েছিল। যাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে পারেন যাত্রীরা। রেল বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছিল, আগামী ৪ জুন থেকে নতুন এই ব্যবস্থা চালু হয়ে যাবে। কিন্তু রেলের এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন যাত্রীদের একাংশ। 
সোমবারই পূর্ব রেলের তরফে ফের নতুন এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। যেখানে বলা হয়, পরিচালনগত অত্যাবশ্যকতার কারণে পূর্বে বিজ্ঞাপিত সংশোধিত সূচি, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। 
প্রথম বিজ্ঞপ্তির পর তীব্র প্রতিবাদ জানানোর সিদ্ধান্ত নেয় বিভিন্ন প্যাসেঞ্জার্স অ্যাসোসিয়েশন। প্রতিটি বড় স্টেশনে গিয়ে প্রতিবাদপত্র দিতে থাকেন যাত্রীরা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জন প্রতিনিধিরাও চিঠি লিখে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। এমনকী বৃহত্তর ‘রেল রোকো’-র ডাক দেওয়া হয়। দুর্ভোগের বিষয়টি সামনে এনে রেলকে তীব্র সমালোচনা শুরু করে সাধারণ মানুষ। ‘অমানবিক’ সিদ্ধান্ত বলে প্রতিবাদে সরব হয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও। বহরমপুর কোর্ট, আজিমগঞ্জ, লালগোলা রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজারকে ডেপুটেশনও দেওয়া হয়। অতঃপর রেলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের খবরে খুশি সকলেই। 
শিয়ালদহ থেকে লালগোলা প্রায় ২২৭ কিমি পথ। এই দীর্ঘ যাত্রাপথে যদি ট্রেনের মধ্যে শৌচাগার না থাকে তাহলে বয়স্ক ও মহিলা যাত্রীদের পাশাপাশি প্রচুর অসুস্থ এবং সাধারণ নাগরিকরাও অসুবিধার মধ্যে পড়বেন। বারবার এই সমস্যার কথা তুলে ধরা হয় বিভিন্ন মহলে। নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট স্টেশনে টয়লেটে যাওয়ার ক্ষেত্রে রেলের আদেশনামার যৌক্তিকতা  নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এমনকী তেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলতে থাকেন সাধারণ মানুষ। 
মুর্শিদাবাদ ডিস্ট্রিক্ট চেম্বার অব কমার্সের সাধারণ সম্পাদক স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, রেল সম্পূর্ণ অযৌক্তিক একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই দীর্ঘ যাত্রাপথে মানুষের কত সমস্যা হয়, সেটা বিবেচনা করা উচিত ছিল। যাই হোক, সে সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত হয়েছে। তাতে আমরা খুশি। তবে কখনওই যাতে শৌচাগার বিহীন ট্রেন এই লাইনে চালু না হয় সেজন্য আমরা রেল দপ্তরকে অনুরোধ করব। 
বহরমপুরের বাসিন্দা তথা একটি নামী বস্ত্র বিপণির কর্ণধার অভিজিৎ চক্রবর্তী বলেন, প্রতি সপ্তাহে আমাদের কলকাতায় যেতে হয়। মেমু ট্রেনে করেই দীর্ঘদিন যাতায়াত করি। রেল এই হাজার হাজার মানুষের কথা না ভেবে রাতারাতি টয়লেট তুলে দেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। ঠান্ডা ঘরে বসে রেলের আধিকারিকদের এই ধরনের সিদ্ধান্তের আমরা তীব্র বিরোধিতা করেছিলাম। রেল যে আপাতত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছে, তাতে আমাদের সাময়িক স্বস্তি মিলেছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ