নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইএসএলএম ফ্যাকাল্টির ডিন হিসেবে অবশেষে নিযুক্ত করা হল অধ্যাপক পার্থসারথি চক্রবর্তীকে। তিনি অ্যাডাল্ট কন্টিনিউইং এডুকেশন অ্যান্ড এক্সটেনশন বিভাগের কমিউনিকেশন স্টাডিজের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। অথচ, দিন কুড়ি আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা স্কুল অব বায়োসায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপিকা মণীষা চক্রবর্তীকে পার্থবাবুর পরিবর্তে ডিন নিয়োগ করায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। অধ্যাপক সংগঠন অ্যাবুটা স্মারকলিপি দিয়ে সহ-উপাচার্য অমিতাভ দত্তকে জানিয়েছিল, সিনিয়রিটির ভিত্তিতে এই পদ পার্থবাবুর প্রাপ্য। মণীষাদেবীর নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে। তারপর বিশ্ববিদ্যালয় এ বিষয়ে আইনি পরামর্শ নেয়। সোমবার পার্থবাবুকে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে নিয়োগের চিঠি পাঠানো হয়েছে।
যাদবপুরের অন্দরে একাংশের দাবি, পার্থসারথি চক্রবর্তীর দপ্তর আইএসএলএম ফ্যাকাল্টির অন্তর্ভুক্ত কি না, তা নিয়ে লোকদেখানো বিতর্ক তৈরি করা হয়েছিল। আসল উদ্দেশ্য ছিল, মাস কমিউনিকেশন বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের উত্তরপত্রের পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়া থেকে পার্থবাবুকে দূরে রাখা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাবশালী লবির সদস্য দুই অধ্যাপক উত্তরপত্র মূল্যায়ন না করেই নম্বর দেওয়ায় অভিযুক্ত হন। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রমাণও মেলে। এমনকী, পুনর্মূল্যায়ন হওয়া খাতাগুলিতে ১৫ শতাংশ নম্বর বেড়েছে। পরিস্থিতি এমনই যে, সোমবার সমস্ত ফ্যাকাল্টিকে নিয়ে একটি বৈঠক হয়। তাতে উত্তরপত্রগুলি ফের স্ক্রুটিনির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের একাংশ এ নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এমনকী, মাস কমিউনিকেশন বিভাগের প্রধানও মূল্যায়নের বিষয়ে তাঁকে অন্ধকারে রাখার বিষয়টি তোলেন। এ নিয়ে তিনি তীব্র আপত্তি জানিয়েছিলেন। অন্যান্য সদস্যদের অনুরোধে তিনি নোট অব ডিসেন্ট দেননি বলে বৈঠকে দাবি করেন উপস্থিত সদস্যরা। মাস খানেকের মধ্যে এই স্ক্রুটিনি সম্পন্ন করার ব্যাপারে সকলে ঐক্যমত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।