সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: ২০১ লক্ষ কোটি টাকা! ক্রমেই ঋণ বাড়ছে ভারতের। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার মুখে যতই ‘আত্মনির্ভর ভারত’, ‘বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ’ বলে প্রচারের বেলুন ফোলাক না কেন, খোদ সংসদেই তা ফুটো হয়ে গিয়েছে। সেখানে সরকার জানাতে বাধ্য হয়েছে প্রকৃত তথ্য। সেখানে দেখা যাচ্ছে, দিনদিন ঋণের বোঝা বেড়েই চলেছে। এমনকী বাজেট পূর্বাভাস বা অগ্রিম হিসাবও মিলছে না মোদি সরকারের। বাজেট পেশের সময় যা বলা হয়েছিল, তার চেয়েও বেড়ে গিয়েছে ঋণের অঙ্ক। ফলে সরকার যে ঋণ সামাল দিতে ব্যর্থ, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
অর্থনীতিবিদ প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংয়ের শাসনকালের শেষ অর্থবর্ষে (২০১৪-১৫) বাজেটে সরকার জানিয়েছিল, ভারতে ঋণের পরিমাণ ৫৫ লক্ষ ৮৭ হাজার ১৪৯ কোটি ৩৩ লক্ষ টাকা। ২০১৪ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সেটাই ছিল ভারতের উপর ঋণের বোঝা। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ৫৪ লক্ষ ৪ হাজার ৪২০ কোটি টাকা। বৈদেশিক ঋণ ১ লক্ষ ৮২ হাজার ৭২০ কোটি টাকা।
২০১৪ সালে ‘আচ্ছে দিনে’র ফেরি করে প্রবল প্রতাপে ক্ষমতায় এলেন নরেন্দ্র মোদি। তারপর কেটে দিয়েছে ১২ বছর। কিন্তু ঋণের বোঝা কমেনি। সংসদে অর্থমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী এক প্রশ্নের উত্তরে লিখিতভাবেই জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ মোতাবেক ভারতের উপর ঋণের পরিমাণ ২০১ লক্ষ ১৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের অঙ্কটি হল ১৯১ লক্ষ ২৮ হাজার কোটি টাকা। বৈদেশিক ঋণ রয়েছে ৯ লক্ষ ৮৯ হাজার কোটি টাকা। অথচ, গত ১ ফেব্রুয়ারি সংসদে বাজেট পেশ করা সময় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন হিসেব দিয়েছিলেন, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ ঋণের অঙ্কটি গিয়ে দাঁড়াবে ১৯৭ লক্ষ ১৮ হাজার ১৬ কোটি টাকায়। সেই হিসেব মিলল না। মাত্র এক মাসের মধ্যেই বাস্তবে তা বেড়ে গেল আরও চার লক্ষ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ হোক বা বৈদেশিক, কোনো ঋণের অঙ্কই আন্দাজের সঙ্গে মেলাতে পারেনি মোদি সরকার। তাই সংসদ থেকে সড়ক, নানা ইস্যুতে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের সমালোচনা করলেও সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজের ঢাকই ফেঁসে গিয়েছে। মনমোহন জমানার চেয়ে গত ১২ বছরের শাসনকালে ঋণের বোঝা বৃদ্ধি পেয়েছে ১৪৬ লক্ষ কোটি টাকা!