পক্ষে
পক্ষে
মৃণাল অধিকারী
যারা বলতেন বন্ধুত্ব চিরস্থায়ী ক্ষমতা নয়, তারা হয়তো ভুলে গিয়েছেন এ দুনিয়ায় কোনও কিছুই চিরস্থায়ী নয়, কথাটা মহামান্য কালাম সাহেবের। সত্যি, কথাটা কত প্রাসঙ্গিক আজকের দিনেও। বন্ধুপ্রীতি মুখে দেখাই কিন্তু আজ আর সে বন্ধুর কথা মনে পড়লেও হাতে থাকা স্মার্টফোন কেড়ে নিয়েছে বন্ধুপ্রীতির বন্ধন। তাই সময়ে অসময়ে এখন বন্ধুটান বলতে ফোনের মহিমা। সময় কেটে যায় ফোনের হাত ধরে। পাড়ার ছেলেরা একজোট হলেও খেলাধুলো, গল্প না করে সময় কাটায় ফোনে। আমাদের জীবনের কথা বলার সময় ফোনই কেড়ে নিয়েছে। রাস্তায়, ট্রেনে, বাসে সময় পেলেই হাতে থাকা ফোনে আমরা খুঁজে নিই় সাময়িক বন্ধুকেই। অবসরপ্রাপ্ত
দেবার্ঘ্য সেন
স্মার্টফোন বর্তমান যুগে সকলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সঙ্গী। মোবাইলে ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে যে কোনও অনুভূতি। এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দরুণ স্মার্টফোন হয়ে উঠেছে বন্ধুরই সমতুল্য। বর্তমানে পারিপার্শ্বিক পরিধি ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। ছোট পরিবারে কথা বলার লোক ও সময় দুয়েরই অভাব। আবার পড়ার চাপে খেলাধুলো ও বন্ধুর সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার সময়ই পাওয়া যায় না। তাই যত বড় হচ্ছি, পড়ার চাপে তত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ কমে আসছে। প্রত্যেক জিনিসেরই দুটো দিক, ভালো আর খারাপ। তবে তার ভালোটাই বিবেচনা করা শ্রেয়। ফোনের ক্ষেত্রেও তাই। যেমন স্মার্টফোনে বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের সাহায্যে বিশ্বের যে কোনও প্রান্তের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা সম্ভব। স্কুলছাত্র
ঋত্বিক চন্দ্র
আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া কীভাবে মানুষের গতিময় জীবনকে স্থবিরতার বদ্ধ জালে অন্তর্মুখী করে আবদ্ধ রাখে তার অন্যতম উদাহরণ হল স্মার্টফোন। মা-বাবার পরে প্রকৃত বন্ধুর কাছেই আমরা জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তগুলি শেয়ার করি। বন্ধুর কাছ থেকে পাই আবেগ, ভালোবাসা, দুঃখ যন্ত্রণা, ব্যর্থতার কানা গলি থেকে আলোয় ফেরার মন্ত্র। ছাত্রজীবন বা আমাদের পেশাগত জীবনে বন্ধুত্বের বাঁধন ধর্ম, সমাজ ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের ঊর্ধ্বে। স্মার্টফোনের ভার্চুয়াল দুনিয়ায় যতই জড়িয়ে পড়ি না কেন রাতবিরেতে কোন বিপদে সেই বন্ধুকেই দরকার পড়ে। অথচ সেটাই এখন আমরা ভুলতে বসেছি। শিক্ষক
সনৎ ঘোষ
এটা সত্যি, বন্ধুর হাতটা ধরার আগেই মুঠোয় ওঠে স্মার্টফোন। এখন কেউ পাশে না বসলেও চলে। ‘চল যাই
দূরে কোথাও’ বলে হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে না আর। বলতে হয় না, তুমি আমার বন্ধু হবে! বন্ধুত্বের বিষয়টাই আজ ফিকে। স্মার্টফোনে বন্ধুত্বের অনুরোধ, শয়ে শয়ে বন্ধু চলে আসছে সহজেই। স্ক্রিনে আঙুলের ছোঁয়ায় বন্ধুর নামে বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে, আসলে লাইক কমেন্ট পাওয়ার নেশায়। সেখানে থাকে না নিঃশ্বাসের শব্দ, হাতের ছোঁয়া। রক্তমাংসের মানুষকে হারিয়ে ছায়া বন্ধু খোঁজার তাগিদে বুঁদ বর্তমান প্রজন্ম। একা হয়ে আত্মকেন্দ্রিক হয়ে ওঠার সেরা ঠিকানা এখন স্মার্টফোন। সরকারি কর্মচারী
বিপক্ষে
সপ্তর্ষি মল্লিক
স্মার্টফোন কখনও বন্ধুর স্থান নিতে পারে না। আমরা স্মার্টফোন ব্যবহার করে থাকি বন্ধুকে কল বা মেসেজ করতে। অধিকাংশ সময় সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যয় হয় বটে, তবে তার বেশিরভাগই আদতে বন্ধুর সঙ্গে খুনসুটি করেই হয়। মোবাইলে তো আমরা বিভিন্ন গেম খেলতে বন্ধুকেই নিমন্ত্রণ করি। অতএব বন্ধুর গুরুত্ব সবসময় আছে। আর বন্ধু যেমন অসময়ের সঙ্গী, ঠিক তেমনই মোবাইল। বন্ধুর সঙ্গে সব কিছু আমরা শেয়ার করে থাকি, আর মোবাইলেও তাই। স্মার্টফোনেও বন্ধুর জন্যই সময় দেওয়া। আইনের ছাত্র
তুষার ব্যানার্জী
স্মার্টফোন দূরকে নিকটে এনেছে, তথ্যের খনিমুখ টেবিলে হাজির করেছে, হাজারো পরিষেবা মুঠোয় তুলে দিয়েছে। তবু বলতেই হবে সে হুকুমের দাস, স্বতঃপ্রণোদিত কোনও কাজে সে অক্ষম। বন্ধু দখিনা বাতাসের মতো অবাধ, খোলা আকাশের মুক্ত বিহঙ্গ। বন্ধু ঘরের চৌকাঠ থেকে বাইরে প্রথম পা রাখার সাথী। বন্ধু মানেই স্কুল পালিয়ে আজ খেলার মাঠ, কাল সিনেমা দেখার স্বাদ। প্রথম সিগারেটের তাপ কিংবা প্রথম প্রেমের শিহরনের অনুপ্রেরণা। নড়বড়ে শৈশবে, ভাবুক কৈশোরে অথবা চনমনে তারুণ্যের সোল্লাস উৎসবে বন্ধুরা একসুরে পাশাপাশি, হরিহরআত্মা। জীবনের খেলাঘরে আজ আমাদের মস্ত দূরত্ব কিন্তু মনের দূরত্ব নেই। স্মার্টফোন আমার সম্পত্তি, বন্ধু সেখানে সম্পদ। বন্ধু স্মার্টফোনের চেয়ে অনেক প্রিয়।
অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ক কর্মী
সৌম্যজিৎ মণ্ডল
আধুনিক সভ্যতার নিদর্শন হল স্মার্টফোন, তবে তা কখনওই বন্ধুত্বের চেয়ে বেশি প্রিয় হতে পারে না। বন্ধু মানে আবেগ, খুনসুটি, ভালোবাসা ও সহানুভূতি, একে অপরের পাশে দাঁড়ানো। যা কোনও যন্ত্র দিতে পারে না। আগে যেমন মাঠে খেলতে যাওয়ার চল ছিল, শারীরিক ও মানসিক দৃঢ়তা বৃদ্ধি পেত। এখন স্মার্টফোনে সব হয়, আমরা ক্রমশ নির্ভরশীল হয়ে উঠছি। এখন আমরা ক্রমশ অবক্ষয়ের পথে এগচ্ছি। এতে মানসিক পরিবর্তন হচ্ছে দ্রুত, দূরত্ব বাড়ছে, মুখোমুখি যোগাযোগ কমছে। প্রযুক্তি দরকার, তবে এর অতিরিক্ত ব্যবহার আমাদের একাকী করে দিচ্ছে। এখনকার ভার্চুয়াল বন্ধুত্ব কখনওই প্রকৃত বন্ধুত্বের জায়গা নিতে পারে না। বন্ধুর জায়গায় স্মার্টফোনকে বসালে আমরা মানুষের প্রকৃত মূল্যকে হারিয়ে ফেলব। বি টেক ছাত্র
স্বর্ণদীপ মাইতি
বর্তমান যুগে স্মার্টফোন মানুষের প্রয়োজনীয় সঙ্গী হয়ে উঠলেও তা কখনওই প্রকৃত বন্ধুর তুল্য হতে পারে না। স্মার্টফোন শুধুমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম, কিন্তু বন্ধু এক অনুভবের নাম! বন্ধু সুখে-দুঃখে পাশে থাকে, মন খুলে কথা বলতে সাহায্য করে। তা সে পাড়ার চায়ের দোকানে আড্ডা দিতে হোক বা ব্রেকআপ-এর গল্প বা চুটিয়ে প্রেম করাই হোক। এটা কোনও প্রযুক্তি দিতে পারে না। ঝগড়া করে আবার সেই বন্ধুর সঙ্গেই বসে বিরিয়ানি খেতে যেতে যে আবেগ থাকে তা কখনও কোনও প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাওয়া যায় না। একাকিত্ব দূর করতে স্মার্টফোনে গেম খেলে বা রিলস ঘেঁটে সাময়িক সঙ্গ পাওয়া যায়, কিন্তু বন্ধুত্বের উষ্ণতা ও আবেগ তা কখনওই দিতে পারে না। তাই স্মার্টফোন প্রয়োজনীয় হলেও বন্ধুর চেয়ে প্রিয় হওয়ার কথা ভাবাও উচিত নয়। ছাত্র
১০০ শব্দের মধ্যে মতামত লিখে পাঠান [email protected] মেল আইডি-তে। সাবজেক্টে লিখবেন ‘তর্ক বিতর্ক’। পক্ষে না বিপক্ষে লিখছেন, উল্লেখ করবেন। শেষে লিখুন নিজের নাম ও পেশা। সঙ্গে পাসপোর্ট সাইজ ছবি। ডাকযোগে বা ফোনে পাঠানো মতামত গ্রাহ্য হবে না। নির্বাচিত মতামত প্রকাশিত হবে। পরের পর্ব ৯ আগস্ট। বিষয়: ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতাই প্রকৃত স্বাধীনতা।’ আপনাদের মতামত পাঠান
৩ আগস্টের মধ্যে।