নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস রোডের উপরই টালিগঞ্জের মালঞ্চ সিনেমা হল। তার উল্টোদিকের গলি ২৯/৩, রিজেন্ট কলোনির একতলায় ভাড়া থাকত দেবাংশু বিশ্বাস ওরফে দীপ ও তার মা। এখনও বাড়ির সামনের রাস্তায় দাঁড় করানো রয়েছে একটি নীল রঙের সিবি শাইন বাইক। সেটি চড়েই টালিগঞ্জ গণধর্ষণকাণ্ডের অভিযুক্ত দেবাংশু বাড়ি থেকে অফিস যেত, জানাচ্ছেন প্রতিবেশীরা। কিন্তু, গণধর্ষণে অভিযুক্ত ২৬ বছরের এই সরকারি কর্মচারী গত ৭২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পলাতক। প্রাথমিক তদন্তে পুলিসের অনুমান, অভিযুক্তরা অত্যন্ত অপরাধমনস্ক। বাইকে চেপে পালালে ফেরার দুই যুবককে ট্র্যাক করা পুলিশের ক্ষেত্রে সহজ হতো। তা জানে তারা। তাই পুলিশের নজর এড়াতেই বাইক ছাড়া চম্পট দিয়েছে দুই অভিযুক্ত।
পুলিশকে নির্যাতিতা জানিয়েছেন, মাদকের নেশা কাটে শনিবার সকালে। তখনই উঠে তিনি দেখেন, টালিগঞ্জের ওই বাড়িতে নেই দেবাংশু ও তাঁর প্রাক্তন প্রেমিক চন্দন। সুযোগ বুঝে পালিয়ে যান তরুণী। পুলিশে অভিযোগ করেন তিনি। সেখানেই উর্দিধারীদের তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ তিনি রিজেন্ট কলোনি থেকে বের হন। অর্থাৎ, তার আগেই বাড়ি ছেড়ে চম্পট দেয় দুই যুবক। অভিযুক্তদের ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করেন তদন্তকারীরা। দেখা গিয়েছে, শনিবার সকাল ৮টা নাগাদ রিজেন্ট পার্ক থানা এলাকার রিজেন্ট কলোনিতেই একসঙ্গে দু’জনের শেষ ‘অ্যাক্টিভ’ লোকেশন ছিল। এরপরে একইসময়ে দু’জনের ফোন বন্ধ হয়ে যায়। তদন্তকারীদের অনুমান, একইসঙ্গে আছে দু’জন। কিন্তু, তারা এখনও পর্যন্ত পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেনি। শুধু তাই নয়, অন্য কোনও প্রযুক্তি ব্যবহার করেও পলাতকদের বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। ৫ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ ঘটনার রাতে সন্ধ্যা থেকেই দেবাংশুর ওই নীল বাইকটিকে একাধিকবার যেতে আসতে দেখা গিয়েছে। ওইদিনের এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গিয়েছে, দুই যুবক বারবার সেই বাইকটি ব্যবহার করছেন। কখনও খাবার নিয়ে গলিতে ঢুকতে দেখা গিয়েছে। আবার কখনও ঘোরাঘুরি করতে দেখা গিয়েছে। রাত পৌনে ১টা নাগাদ শেষবার বাইকটি এসে দাঁড়ায় বাড়ির সামনের রাস্তায়। তারপর থেকেই সেখানে রয়েছে গাড়িটি। সেই বাইকটি করেই তরুণীকে দেবাংশুর বাড়িতে আনা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।