নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সকালের দিকে চরম ব্যস্ততা চলছে মেট্রো স্টেশনে। তখন ট্রেনের সামনে মরণঝাঁপ এক মহিলার। ট্রেনের চালক ইমারজেন্সি ব্রেক কষেছিলেন। কিন্তু ধাক্কা এড়াতে পারেননি। ট্রেনের ধাক্কায় ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় দেহ। মাস্টারদা সূর্য সেন (বাঁশদ্রোণী) স্টেশনে ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার সকাল আটটা ২০ মিনিট নাগাদ। সম্প্রতি মেট্রো নয়া নিয়ম জারি করেছে। হলুদ লাইনে পা দিলেই জরিমানা নেওয়ার নির্দেশ। নিয়ম জারির কয়েকদিনের মধ্যেই নজরদারি এড়িয়ে ফের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটল।
পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম মন্দিরা দাস (৫২)। তিনি নেতাজিনগরের বাসিন্দা। দমদমগামী ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান। এই ঘটনার জেরে এদিন পরিষেবা বিঘ্নিত হয়। তীব্র ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের। জানা গিয়েছে, সকাল সোয়া আটটা নাগাদ দমদমগামী মেট্রো বাঁশদ্রোণী স্টেশনে প্রবেশের ঘোষণা শোনা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তা শোনার পর হলুদ লাইনের কাছাকাছি এগিয়ে যান এক প্রৌঢ়া। বাকিরা তাঁকে এগতে নিষেধ করেন। কিন্তু সে কথা শোনেননি মহিলা। ততক্ষণে দমদমগামী ট্রেনটি কাছাকাছি চলে এসেছে। সেটি আরও কাছে আসার পর চকিতে লাইনে ঝাঁপ দেন। সজোরে ব্রেক কষেন চালক। কিন্তু লাভ হয়নি। তালগোল পাকিয়ে ছড়িয়ে পড়ে মহিলার দেহাংশ। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রেল পুলিস। খবর যায় অফিসার ইনচার্জ, মেট্রোর কাছে। বাঁশদ্রোণী থানার পুলিস স্টেশনে পৌঁছয়। মেট্রোর থার্ড লাইনে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেহ উদ্ধার করা হয়। এমআর বাঙ্গুর হাসপাতালে পাঠানো হয় মৃতদেহ। একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে। দেহ পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তে। প্রাথমিক তদন্তের পর অনুমান, দীর্ঘদিন ধরে অবসাদে ভুগছিলেন মন্দিরাদেবী। তার জেরে সম্ভবত আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। মেট্রো সূত্রে খবর, সকাল আটটা ২০ মিনিট থেকে কবি সুভাষ-টালিগঞ্জ পর্যন্ত পরিষেবা বন্ধ ছিল। ন’টা নাগাদ পরিষেবা স্বাভাবিক হয়।