নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: দলের শহর কমিটির সভাপতিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল কাউন্সিলার তথা দলের শ্রমিক সংগঠনের নেতার বিরুদ্ধে। পদ থেকে না সরলে খুনের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পানিহাটিতে শাসক দলের দুই গোষ্ঠীর লড়াই ও সমাজমাধ্যমে পোস্টকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি দুই নেতাই দলীয় নেতৃত্বকে জানালেও রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। শাসক দলের তরফে, বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
২০২১ সালের আগস্ট থেকে পানিহাটি শহর তৃণমূল (পশ্চিম) সভাপতি প্রবীর ভট্টাচার্য ওরফে কূল। তিনি আবার শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার। অন্যদিকে, শহরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার হলেন জয়ন্ত দাস ওরফে গোবিন্দ। তিনি সম্প্রতি আইএনটিটিটিউসির পানিহাটি শহরের (পশ্চিম) সভাপতি হয়েছেন। রবিবার প্রবীরবাবু সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন। তাতে তিনি লেখেন, ‘১৩ আগস্ট দুপুর ২টো ২৯ মিনিটে আমার কাছে হুমকি ফোন এসেছে। একসময় আমি যার জীবন বাঁচিয়েছি, সেই আমাকে পদ থেকে সরার কথা বলছে ও খুনের হুমকি দিচ্ছে!’ এরপর তিনি লেখেন, ‘মৃত্যু জীবনে একবারই আসে। কূল মাথা নত করার লোক নয়।’
এই বিষয়ে প্রবীরবাবু বলেন, ‘বাম জমানায় কেবল ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে অপরাধীদের সঙ্গে লড়াইয়ে জড়িয়ে গিয়েছিল জয়ন্ত ওরফে গোবিন্দ। রাত জেগে ওকে আমি বাঁচিয়েছি। সে কাউন্সিলারের পাশাপাশি এখন আইএনটিটিইউসির সভাপতি হয়েছে। সে আমাকে ফোন করে খুনের হুমকি দিচ্ছে। সে আরও বলছে, কেউ বাঁচাতে পারবে না। খুন করব। এখনই পদত্যাগ করে সরে যা। আমি দলকে জানিয়েছি। আগে দল কিছু করে কি না দেখছি। তারপর আইনের পথে হাঁটব।’
জয়ন্ত দাস সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ‘আমি তো রবিবার সকালে এই পোস্ট দেখেছি। সেখানে অবশ্য কারও নাম নেই। পরে শুনছি, উনি আমার নামে পরিকল্পিত মিথ্যাচার করছেন। বিষয়টি কানে আসার পর দলকেও জানিয়েছি। উনি সম্পূর্ণ মিথ্যে ও ভিত্তিহীন কথা বলছেন।’
এই বিষয়ে পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষ বলেন, ‘কে কার নাম নিয়ে ফোন করছে, তা তো তদন্তের আগে বোঝা সম্ভব নয়। তবে এই অভিযোগ সত্যি বলে মনে হচ্ছে না। আমাদের দলে কোনও ভুল বোঝাবুঝি নেই।’