সংবাদদাতা, তেহট্ট: তেহট্ট উপসংশোধনাগারে থাকা এক বিচারাধীন বন্দির অস্বাভাবিক মৃত্যুতে উত্তেজনা ছড়ায় তেহট্ট মহকুমা হাসপাতাল চত্বরে। মৃতের নাম মেহের আলি দফাদার (৩৫)। তার বাড়ি তেহট্ট থানার পূর্ব নওদা পাড়া এলাকায়। এই ঘটনায় পুলিসের কাছে খুনের অভিযোগ করেছেন মৃতের স্ত্রী রাখী বিবি। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার ভোরে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে সংশোধনাগার থেকে নিয়ে যাওয়া হয় তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খুনের অভিযোগ হওয়ায় ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে তদন্ত হয়। তারপর মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিস ও সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ সুত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসের একটি মামলায় ১২ মার্চ মেহেরকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তাকে তেহট্ট আদালতে নিয়ে যাওয়া হলে বিচারক ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। সেই থেকে তেহট্ট উপ সংশোধনাগারেই ছিলেন মেহের। জেল কর্তৃপক্ষের দাবি, বৃহস্পতিবার ভোরে সংশোধনাগারে শৌচালয়ে গলায় গামছার ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে পড়েন মেহের। আবাসিকদের কাছ থেকে এই কথা জানতে পেরে সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ তাঁকে তড়িঘড়ি তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই কথা সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ মৃতের পরিবারকে জানালে, তাঁরা মেহেরের আত্মহত্যা করার দাবি মানতে চাননি। সকাল হতেই এলাকার লোকজন হাসপাতালে ভিড় করেন। হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে প্রচুর পুলিস হাসপাতালে মোতায়েন করা হয়। পরে মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হলে এলাকা ফাঁকা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গিয়েছে, তিনি একাধিকবার জেল খেটেছেন। মৃতের বাবা নিজাম দফাদার, বলেন, আমার ছেলে আত্মহত্যা করতে পারে না। ওকে মেরে ফেলেছে জেল কর্তৃপক্ষ। আমরা এর বিচার চাই। একই কথা বলেছেন মৃতের মা চপলা বিবিও। ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের পর দুপুরের দিকে মৃতের স্ত্রী রাখী বিবি খুনের লিখিত অভিযোগ জমা দেন তেহট্ট থানার পুলিসের কাছে। এরপরেই মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ময়নাতদন্তের জন্য।
তেহট্ট উপ সংশোধনাগারের জেলার অরূপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, গলায় গামছার ফাঁস লাগিয়েই ঝুলে পড়েছিলেন মেহের। ওঁর সঙ্গে থাকা আবাসিকরা ওঁকে উদ্ধার করেন। জীবিত অবস্থায় তাঁকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলেই সব কিছু পরিষ্কার হবে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগ হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।