নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: ইচ্ছে ছিল বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। বিরল স্পাইনাল মাস্কুলার অ্যাট্রফিতে ভুগলেও পড়াশোনায় তার প্রভাব পড়তে দেয়নি মেদিনীপুর শহরের মীরবাজারের অনুভব পাল। মাধ্যমিকে ভালো রেজাল্ট করেছিল। কিন্তু চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেল অনুভব(১৭)। তার মৃত্যুতে শহরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
অনুভব মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলের(বালক) ছাত্র ছিল। মাধ্যমিকে তার প্রাপ্ত নম্বর ছিল ৬৩৩। সে ‘স্পাইনাল মাস্কুলার অ্যাট্রফি’র টাইপ টু-তে আক্রান্ত ছিল। ১মে তার প্রথম অস্ত্রোপচার হয়। হাসপাতালে ভর্তি থাকার সময়েই মাধ্যমিকে ভালো ফলাফলের কথা সে জানতে পারে। সপ্তাহখানেক আগেই তার দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার হয়। তারপর থেকেই অনুভবের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। শুক্রবার তাকে ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়। শনিবার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
অনুভবের পরিবারের সদস্যরা জানান, পড়াশোনা ছাড়াও আবৃত্তিশিল্পী হিসেবেও তার খুব জনপ্রিয়তা ছিল। ছোটবেলা থেকেই আবৃত্তি শিল্পী হিসেবে রাজ্য ও জাতীয় স্তরের একাধিক পুরস্কার জিতেছিল অনুভব। তাকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টাতেই পরিবারের তরফে মেরুদণ্ডের বিরল অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
এদিন মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলের সহশিক্ষক সুকুমার ভুঁইয়া বলেন, ও খুবই মেধাবী ছাত্র ছিল। খুব খারাপ লাগছে। কী বলব বুঝে উঠতে পারছি না। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা হিমানী পড়িয়া বলেন, খুবই দুঃখজনক ঘটনা। আমরা সবাই অনুভবের মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত।