বেঙ্গালুরু: চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ১১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় আরও ব্যাকফুটে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি)। সদ্য আইপিএল জয়ী ফ্র্যাঞ্চাইজির অন্যতম শীর্ষ কর্তাকে শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তার করল পুলিস। ধৃতের নাম নিখিল সোসালে। তিনি আরসিবির মার্কেটিং হেড। গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও তিনজনকে। তাঁরা ডিএনএ এন্টারটেনমেন্ট নামক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার আধিকারিক। ধৃতদের মধ্যে সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট সুনীল ম্যাথিউ নিজেও রয়েছেন। প্রত্যেককেই কাব্বন পার্ক থানায় এনে জেরা করা হচ্ছে। রাতেই খবর পাওয়া যায়, কাব্বন পার্ক থানায় বিরাট কোহলির বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করেছেন এইচ এম ভেঙ্কটেশ নামে এক সমাজকর্মী। তাঁর দাবি, কোহলির জন্যই পদপিষ্টের ঘটনা। পুলিস জানিয়েছে, এসংক্রান্ত মামলার সঙ্গেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
পুলিস সূত্রে খবর, আরসিবির হয়ে প্রচারের দায়িত্ব সামলাতেন নিখিল। বুধবার বেঙ্গালুরুতে আইপিএল জয় সেলিব্রেশনের পরিকল্পনার দায়িত্বেও ছিলেন। আর তা বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিল ডিএনএ এন্টারটেনমেন্ট। আইপিএল ট্রফি নিয়ে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে সেলিব্রেশনের বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করে দেওয়া হয়। কিন্তু বিপুল সংখ্যায় মানুষ এলে কীভাবে সামলানো হবে, তার কোনও প্ল্যানিং ছিল না। তার পরিণতি, মৃত্যুমিছিল। এদিন বিমানে বেঙ্গালুরু থেকে মুম্বই যাচ্ছিলেন নিখিল। তার আগেই ভোর সাড়ে ছ’টায় বেঙ্গালুরু এয়ারপোর্ট থেকে তিনি গ্রেপ্তার হন।
এদিনই আরসিবির বিরুদ্ধে নতুন করে এফআইআর হয়েছে। পদপিষ্টে আহত এক ব্যক্তি ওই অভিযোগ দায়ের করেন। তাতে কর্ণাটক রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা (কেএসসিএ) ও ডিএনএ’র নামও রয়েছে। বুধবারের ঘটনায় ওই ব্যক্তির ডান কাঁধ ভেঙে যায়। এফআইআরে তিনি জানিয়েছেন, তিন সংস্থার চরম গাফিলতির জন্যই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গিয়েছিল। কেউই বিপুল ভিড় সামলানোর জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি।
চাপের মুখে ইতিমধ্যে পুলিস কমিশনার দয়ানন্দকে সাসপেন্ড করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া। এবার পুলিস ও প্রশাসনের আরও দুই কর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল রাজ্য। এদিন রাজ্য সরকার জানিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব কে গোবিন্দরাজকে তাঁর পদ থেকে অপসারিত করা হয়েছে। বদলি করা হয়েছে কর্ণাটকের গোয়েন্দা প্রধান হেমন্ত নিম্বলকরকেও। কর্ণাটক সরকার সূত্রে খবর, বুধবার সকালে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে জরুরি বৈঠক চলছিল। তাতে গোবিন্দরাজ ওইদিনই আরসিবির জয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য জোর দেন। প্রথমে ঠিক হয়, তিন জায়গায় অনুষ্ঠান হবে। পুলিস কমিশনার রাজি না হলেও মুখ্যমন্ত্রীর সচিব বিধান সৌধ ও চিন্নাস্বামীতে অনুষ্ঠান আয়োজনে কার্যত বাধ্য করেন। যদিও বিরোধীদের দাবি, সরকার দায় ঝেড়ে ফেলতেই পুলিসকর্তাদের বলির পাঁঠা করছে।
এদিকে, কার গাফিলতিতে এতজনের প্রাণ গেল তা নিয়ে রাজ্য প্রশাসন ও কেএসসিএর তীব্র চাপানউতোর চলছে। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার তিন শীর্ষ কর্তার বিরুদ্ধে এফআইআর করেছিল পুলিস। এদিন ওই এফআইআরকে চ্যালেঞ্জ করে কর্ণাটক হাইকোর্টে গিয়েছে কেএসসিএ। গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় গা-ঢাকা দিয়েছেন ওই কর্তারা। এদিন কেএসসিএ হাইকোর্টে দাবি করেছে, অনুষ্ঠানের কোনও দায়িত্বে রাজ্য সংস্থা ছিল না। হাইকোর্ট অবশ্য জানিয়েছে, ১৬ জুন পর্যন্ত ক্রিকেট সংস্থার কোনও কর্তার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে পারবে না পুলিস।