Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রথম দফার ভোটের দিনই এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যু, বৃদ্ধার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, রাজনৈতিক তরজায় সরগরম হুগলি

এসআইআর আতঙ্কে আত্মহত্যার সাক্ষী থাকল প্রথম দফার ভোট। বৃহস্পতিবার রাজ্যের ১৬ জেলায় যখন ভোটগ্রহণ চলছে, তখন হুগলির দাদপুর থানার গোস্বামী মালিপাড়া পঞ্চায়েত এলাকায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করলেন এক বৃদ্ধা।

প্রথম দফার ভোটের দিনই এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যু, বৃদ্ধার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, রাজনৈতিক তরজায় সরগরম হুগলি
  • ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: এসআইআর আতঙ্কে আত্মহত্যার সাক্ষী থাকল প্রথম দফার ভোট। বৃহস্পতিবার রাজ্যের ১৬ জেলায় যখন ভোটগ্রহণ চলছে, তখন হুগলির দাদপুর থানার গোস্বামী মালিপাড়া পঞ্চায়েত এলাকায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করলেন এক বৃদ্ধা। দুপুরে বাঁশবাগান থেকে উদ্ধার হয়েছে তাঁর ঝুলন্ত দেহ। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম গায়ত্রী মাঝি (৬২)। এসআইআরে তাঁর নাম বাদ গিয়েছিল। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, অনুপ্রবেশকারী হিসাবে চিহ্নিত করে তাঁকে যদি বিতাড়ন করা হয়, এই চিন্তাই তাঁকে গ্রাস করেছিল।

Advertisement

বুধবার সকালে ওই বৃদ্ধার বাড়িতে ছেলে ও বউমার ভোটার স্লিপ বিলি করে যান বিএলও। কিন্তু গায়ত্রী দেবীর ভোটার স্লিপ না থাকায় চিন্তায় পড়েন তিনি। এনিয়ে তিনি ছেলেকে জিজ্ঞাসাও করেন। পরিবারের দাবি, ছেলে আশ্বস্ত করলেও তিনি শান্ত হননি। বরং সারাদিনই চিন্তায় ছিলেন। এদিন বাড়ির কাছেই বাঁশঝাড়ে তাঁর ঝুলন্ত দেহ পাওয়া যায়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই ভোট মরশুমে তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। এই এলাকাটি ধনেখালি বিধানসভার মধ্যে পড়ে। এনিয়ে তৃণমূল প্রার্থী তথা অসীমা পাত্র বলেন, ‘আর কত মৃত্যুশোক সইতে হবে জানি না। বিজেপি গোটা বাংলাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। প্রতিটি পরিবারে আতঙ্ক সৃষ্টি করাই ওদের কাজ। আমরা ক্ষমতায় এলেই সবার নাম ভোটার তালিকায় তুলে দেব। আমি মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করতে চাই না। তবুও বলব, সবাই মিলে এই অকাল মৃত্যুর যোগ্য জবাব দিন ভোটবাক্সে।’
বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, মৃত্যু নিয়ে আগাগোড়াই তৃণমূল রাজনীতি করে। যে কোনো মৃত্যু দুঃখজনক। তবে তার সঙ্গে এসআইআরকে জুড়ে দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে ওরা। এভাবে মানুষকে প্রভাবিত করা যায় না। সিপিএম নেতা মনোদীপ ঘোষ বলেন, এসআইআর নিয়ে বাংলায় যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা মিথ্যে নয়। মানুষ জানেন তাঁদের কেমন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। মৃতার ছেলে পল্টু মাঝি বলেন, ভোটার তালিকায় নাম না থাকার কারণে উদ্বেগে ছিলেন মা। সেই কারণেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খসড়া ভোটার তালিকাতেই নাম ছিল না গায়ত্রীদেবীর। যদিও ২০০২ সালে তালিকায় তাঁর নাম ছিল। তখন থেকেই উদ্বেগে ছিলেন বৃদ্ধা। শেষমেশ তাঁর নামে ভোটার স্লিপ না আসায় ভেঙে পড়েন তিনি। তারপরেই চরম পথ বেছে নেন বৃদ্ধা।

সম্পর্কিত সংবাদ