নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাওড়া ময়দান চত্বরে ফের বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। বুধবার দুপুরে হাওড়া ময়দান মেট্রো স্টেশনের সামনে শিয়ালদহ-হাওড়া ময়দান ৭১ নম্বর রুটের একটি বাসের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে এক প্রৌঢ়ার। মৃতার নাম সুরুচি দে (৫৮)। তাঁর বাড়ি হাঁসখালি পোল এলাকায়। তিনি হাওড়া জেলা আদালতের মুহুরি ছিলেন। বাসচালক সহ ঘাতক বাসটিকে আটক করেছে হাওড়া থানার পুলিস।
জানা গিয়েছে, সুরুচিদেবী এদিন বেলা ১টা নাগাদ কোর্টের কাজে হেঁটেই হাওড়া ময়দান চত্বরের একটি ব্যাঙ্কে যাচ্ছিলেন। রাস্তা পার হওয়ার সময় আচমকা ৭১ রুটের একটি ফাঁকা বাস বেপরোয়া গতিতে তাঁর সামনে চলে আসে। স্থানীয়রা চিৎকার করে প্রৌঢ়াকে সতর্ক করলেও ততক্ষণে দেরি হয়ে গিয়েছে। মুহূর্তে বাসের সামনের চাকায় পিষ্ট হয়ে যায় তাঁর দু’টি পা। তাঁকে বাঁচাতে ছুটে আসেন স্থানীয়রা। আসেন ট্রাফিকের আধিকারিকরাও। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কিছুক্ষণ বাদে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় প্রৌঢ়ার। ঘাতক বাসটিকে আটক করে হাওড়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। দুর্ঘটনার পর বেশ কিছুক্ষণ যানজট হয় ওই এলাকায়। পুলিস ধীর ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। হাওড়া আদালতের ল’ ক্লার্ক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল নাথ বলেন, ‘মর্মান্তিক ঘটনা। সুরুচিদেবীর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে।’
হাওড়া ট্রাফিকের এক আধিকারিক বলেন, ‘দুর্ঘটনার সময় বাসের গতি কতটা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।’ এদিন দুর্ঘটনার পর হাওড়া ময়দান এলাকায় বাসের বেপরোয়া গতি নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাঁদের একাংশের কথায়, ‘এমনিতে টোটো, অটো, বাইকের দাপটে হাওড়া ময়দান এলাকায় রাস্তা পারাপার করা কষ্টকর পথচারীদের। তার উপর ওই ব্যস্ত রাস্তায় মোড় ঘুরতে গিয়ে বাসগুলি যেভাবে গতি বাড়িয়ে দেয়, তাতেই দুর্ঘটনা ঘটছে।’
প্রসঙ্গত, গত মে মাসে হাওড়া ময়দান থেকে দ্রুতগতিতে ফাঁসিতলার দিকে যাওয়ার পথে একটি স্কুল বাস ফুটপাতের উপর উঠে গিয়েছিল। বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছিল ফল বিক্রেতা এক মহিলার। এ নিয়ে গত তিন মাসে একই এলাকায় বাসের ধাক্কায় তিনজনের মৃত্যু হল। বাসের লাগামহীন গতিতে রাশ টানতে পুলিসের কড়া ভূমিকার দাবি তুলছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।