Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

মৃত্যু

“গুরুর শব্দের অবলম্বনে জন্ম-মৃত্যুর নিবৃত্তি হয়।” উন্মুখ জীব যখন মারা যায়, মৃত্যুর পরও নিজের ক্ষতি করে কারণ দ্বৈত-ভাবে যুক্ত থাকার জন্য আত্মার হনন করে।

মৃত্যু
  • ১৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

“গুরুর শব্দের অবলম্বনে জন্ম-মৃত্যুর নিবৃত্তি হয়।” উন্মুখ জীব যখন মারা যায়, মৃত্যুর পরও নিজের ক্ষতি করে কারণ দ্বৈত-ভাবে যুক্ত থাকার জন্য আত্মার হনন করে। সে কেবলই আমার-আমার করতে থাকে কারণ সে ভ্রমে নিদ্রামগ্ন থাকার জন্য আত্মিক স্বরূপকে চিনতে পারে না। যে গুরুর শব্দ অবলম্বন কোরে মারা যায় তার মৃত্যু সম্পূর্ণ হয়। স্তুতি ও নিন্দা সম্পর্কে সমভাবের বোধ তাকে গুরই প্রদান করেন। সে হরি জপ কোরে যুগে যুগে লাভবান হয়ে এখান থেকে চলে যায়। নাম বিহীন জীব গর্ভ যোনিতেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। দ্বৈত-ভাবে লোভান্বিত হওয়ায় সে মনুষ্য জন্ম বৃথাই হারায়। নাম বিনা সমস্ত জীব-সৃষ্টি দুঃখ-কষ্টে জস্কলতে থাকে। সত্য গুরু পূর্ণ বোধ প্রদান করেন। দ্বৈত-ভাবে থাকা জীবের মন চঞ্চল হওয়ায় তাকে বহু আঘাত পেতে হয়। এই মনুষ্য জন্ম থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আর কোন ঠিকানা সে পায় না। গর্ভ-যোনি ও বিষ্ঠায় তার নিবাস হয়। এইভাবে উন্মুখ জীব এমন ঘরের নিবাসী হয়ে দিন কাটায়। আমি আমার সৎগুরুর জন্য সর্বদা আত্মহারা হই যে গুরুমুখ আমাকে পরম জ্যোতির সঙ্গে যুক্ত করেছেন। গুরুর নির্মল বাণীর মাধ্যমে আত্মস্বরূপে নিবাস হয়। হে নানক! গুরুমুখ পুরুষ যিনি অহংভাবকে মারতে পারেন, তিনি মায়াকে সর্বদা পরিত্যাগ করতে পারেন।

Advertisement

“প্রকৃত দাস জাত্যভিমান আকাঙ্ক্ষা করে না।”
যে অনুরাগী আপন জাত্যভিমান ত্যাগ করেছে, ত্যাগী আপন দেহ মন সৎগুরুকে অর্পণ করেছে এবং নামের মহত্ত্বকে আপন হৃদয়ে ধারণ করেছে, প্রভু প্রিয়তম সর্বদা তার সহায় হয়েছেন। অনুরাগী সে, যে জীবিত অবস্থায় অহংকার ত্যাগ করতে পারে এবং হর্ষ-বিষাদকে সমভাবে দেখে। সে গুরুর কৃপায় তাঁর শব্দের সাহায্যে উদ্ধার লাভ করে। পরমাত্মা গুরুর শব্দ ধারণের কথা আদিতেই বলেছেন। শব্দ ধারণ বিনা কেউই ঠিকানা পায় না। অনুরাগী কীর্তিমান ও কর্মদক্ষ নামকে মনে ঠাঁই দেয়। পরমেশ্বর তাকে নিজেই নাম প্রদান করেন এবং তা দিতে বিলম্ব করেন না।
উন্মুখ জীব ভ্রমের দরুন সংসারে মিছে ঘুরে মরে। শ্রদ্ধার মূলধন না থাকায় সে মিথ্যার বেসাতি করে। প্রকৃত মূল্য ছাড়া নামের সওদা তার ঝুলিতে পড়ে না। এই ভাবে ভুলে থাকা উন্মুখ জীব আপন মনুষ্য জন্ম বৃথাই খুইয়ে বসে। যে সৎগুরুর সেবা করে সেই প্রকৃত অনুরাগী হয়। তার জাতি উত্তম ও তার শোভাও উত্তম। সে গুরুরূপী পউড়ীতে উঠে উচ্চ স্থান পায়। হে নানক! নামের দ্বারাই এই গৌরব পাওয়া যায়।
“পতি পরমেশ্বরই সত্য স্বরূপ।”
উন্মুখ জীব কেবলই মিথ্যাকে ধারণ করে। তাই সে পতি পরমেশ্বরের মহল কখনই পায় না। তার বৃত্তি দ্বৈত-ভাবে যুক্ত থাকায় সে ভ্রমে পড়ে দিক্‌ ভ্রান্ত হয়ে ঘোরে। এইভাবে সে মমতায় আবদ্ধ হয়ে নানা যোনিতে গমনাগমন করতে থাকে। অনাদৃত স্ত্রীর মন কেবল শৃঙ্গার দেখে। সে পুত্র, ধন ও মায়াতে আকৃষ্ট হয় যা কিনা মিথ্যা মোহের আধার, ভণ্ডামিতে ভরা ও রিপু স্বরূপ। যে জীব-স্ত্রী প্রভু পতির প্রিয় হয় সে সর্বদা আদরিণী হয়। সে গুরু-শব্দকে আপন শৃঙ্গার বানায়। তার হৃদয়রূপী শয্যা সুখদায়ক কারণ হরি সেখানে দিন-রাত রমণশীল। 
‘আদি শ্রী গুরু গ্রন্থ সাহেব’ থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ