


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই বকেয়া ডিএ মেটানো সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ্যে নিয়ে এল নবান্ন। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দুটি কিস্তিতে ২০১৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানো হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে রাজ্য অর্থদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে। প্রথম কিস্তি দেওয়া হবে ৩১ মার্চের মধ্যে। পরবর্তী কিস্তি চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে। নির্দেশিকা অনুযায়ী এ, বি এবং সি গ্রুপের কর্মীদের অর্থ জমা করা হবে জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ডে। আর গ্রুপ ডি এবং পেনশনার প্রাপকদের বকেয়া জমা পড়বে তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। অন্যদিকে, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং অন্যান্য স্বশাসিত বা অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থার কর্মী ও পেনশনভোগীদের এই চার বছরের বকেয়া ডিএ হিসাবের দায়িত্ব দেওয়া হল তাঁদের দপ্তরের উপর। হিসাব তৈরির কাজ শেষ হলে অর্থদপ্তরের অনুমতিক্রমে ডিএ প্রদানের বিজ্ঞপ্তি জারি করবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলি।
তাহলে, ২০১৬ সালের আগের বকেয়া ডিএ’র কী হবে? বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত খাদ্যপণ্যের সর্বভারতীয় পাইকারি সূচক বা অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইজ ইনডেক্স অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। কিন্তু, ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএ কীভাবে মেটানো হবে তা আগামী দিনে জানানো হবে বলে ১৩ মার্চের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এছাড়া, সংশ্লিষ্ট সময়ে চাকরি করে পরে অবসর নেওয়া বা পদত্যাগ করা কর্মচারীরাও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে বকেয়া ডিএ পাওয়ার অধিকারী হবেন। আবার, মৃত কর্মচারীর ক্ষেত্রে তাঁর মনোনীত ব্যক্তি বা আইনগত উত্তরাধিকারী বকেয়া অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন। মূল মামলাকারী তথা কনফেডারেশনের নেতা মলয় মুখোপাধ্যাযয়ের বক্তব্য, ‘রাজ্যের এই সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের রায়কে লঙ্ঘন করছে। কারণ, রায় অনুযায়ী ১৫ মে’র মধ্যে বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা। তাহলে এক্ষেত্রে রাজ্যের আমলারা কি মুখ্যমন্ত্রীকে বিভ্রান্ত করে এই বিজ্ঞপ্তি তৈরি করেছেন?’
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের কনভেনার প্রতাপ নায়েক জানান, মুখ্যমন্ত্রী কথা রেখেছেন। রাজ্যের আর্থিক অবস্থা সকলের জানা, তা সত্ত্বেও কর্মচারীদের কথা তিনি ভেবেছেন। অন্যদিকে, এদিন সকাল থেকে একাধিক ভুয়ো বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়েছে কর্মচারীদের মধ্যে।