নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: মঙ্গলবার সিবিআই তদন্তের দাবি করার ২৪ ঘণ্টা পরেই ভোল বদলে এবার সিআইডি তদন্তের দাবি জানালেন গুলিতে নিহত তৃণমূল নেতা অমর রায়ের মা কুন্তলা রায়। তিনি ডাউয়াগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। ছেলের মৃত্যুর তিনদিন পর তিনি সিবিআই তদন্তের দাবি করার পর কেন আবার সিআইডি তদন্ত চাইলেন তা নিয়ে অবশ্য চর্চা শুরু হয়েছে। তবে কুন্তলা দাবি করেছেন, তাঁর মানসিক অবস্থা এখন ঠিক নেই।
বুধবার দুপুরে কোচবিহারের পুলিস সুপার দ্যুতিমান ভট্টাচার্যর সঙ্গে দেখা করেন কুন্তলা। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, রাজ্য পুলিসের উপর আমার ভরসা আছে। সিআইডি তদন্ত চাই। আমার মানসিক অবস্থা ভালো নেই।গত শনিবার ডোডেয়ারহাটে মাংস কিনতে গেলে দুষ্কৃতীরা অমরকে গুলি করে খুন করেছিল। ঘটনার চারদিন পরেও খুনের ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিস। পুরো বিষয়টি নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। পুলিসও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে বিশেষ কিছু বলতে চাইছে না। যদিও এদিন পুলিস জানিয়েছে, ঘটনায় এখনও পর্যন্ত প্রায় ২০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
এদিকে, ডোডেয়ারহাটে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে তৃণমূল নেতা খুনের ঘটনায় তৃণমূলের একাংশের অন্দরেও পুলিসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। কোচবিহার-১ ও ২ ব্লকের সংযোগস্থল, বিশেষ করে পুণ্ডিবাড়ি থানার বিস্তীর্ণ এলাকায় নানা অবৈধ কার্যকলাপ চলে বলে অভিযোগ। সেখানে পুলিসের নজরদারি কেন থাকে না, গোয়েন্দা বিভাগ কী করে, এসব নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিস সুপার কৃষ্ণগোপাল মিনা। তিনি বলেন, প্রায় ২০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মৃতের মা এদিন এসেছিলেন। তাঁর বক্তব্য শোনা হয়েছে। কোচবিহারের প্রাক্তন সাংসদ পার্থপ্রতিম রায় বলেন, দুষ্কৃতী দমনে সাধারণ মানুষ, আমাদের ও পুলিসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পুলিসের সক্রিয়তা আরও বাড়াতে হবে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি নিহত তৃণমূল নেতার মা।-নিজস্ব চিত্র