Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রামপুরহাটে ভোটার তালিকায় ‘মৃত’ বৃদ্ধ, বন্ধ হয়ে গিয়েছে বার্ধক্য ভাতা

রামপুরহাটে ভোটার তালিকায় ‘মৃত’ বৃদ্ধ, বন্ধ হয়ে গিয়েছে বার্ধক্য ভাতা
  • ১২ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: গত বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন। তারপর আচমকা ভোটার তালিকায় তিনি ‘মৃত’ হয়ে যান। ভোটার তালিকার এই গণ্ডগোলে বার্ধক্যভাতা আটকে যাওয়ায় রামপুরহাট-১ ব্লকের ৭৭বছরের এক বৃদ্ধ ফাঁপরে পড়েছেন। শুধু তাই নয়, ধীরেন মাল নামে ওই বৃদ্ধের স্ত্রী প্রয়াত হলেও ভোটার তালিকায় তাঁকে জীবিত দেখানো হয়েছে। ভোটার তালিকায় গরমিল নিয়ে রাজনীতি যখন তপ্ত, তখন রামপুরহাট বিধানসভার এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছ‌঩ড়িয়েছে।

Advertisement

বিডিও অঙ্কুর মিত্র বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ওই বৃদ্ধের নাম ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গিয়ে থাকলে বিডিও অফিসের ইলেকশন সেকশনে যোগাযোগ করতে হবে। আমিও বিষয়টি দেখছি।
রামপুরহাট-১ ব্লকের নারায়ণপুর পঞ্চায়েতের কানাইপুরের বাসিন্দা ধীরেন মাল। তাঁর দুই ছেলের মধ্যে একজনের অনেক আগে বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয়েছিল। অপর ছেলে পৃথক থাকে। পাঁচবছর আগে স্ত্রী ভাসানি লেটের মৃত্যুর পর থেকে তিনি একাই থাকেন। ভরসা বলতে বার্ধক্যভাতা। এছাড়া চেয়েচিন্তে দিন চলে। প্রতিবার নির্বাচনে তিনি আসসজোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুথে ভোট দিয়ে এসেছেন। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনেও ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোট দিতে বুথে গেলেও তাঁকে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরতে হয়েছে। কারণ ভোটার তালিকায় তাঁর নাম নেই। গতবছর লোকসভা নির্বাচনেও তাঁকে বুথে এসে ফিরে যেতে হয়। এরপর তিনি গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য থেকে শুরু করে বিডিও অফিসে আবেদন জানালেও ভোটার তালিকায় নাম ওঠেনি। পাঁচমাস আগে তাঁর বার্ধক্যভাতাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
ধীরেনবাবু বলেন, বার্ধক্যভাতা বন্ধ থাকায় বিডিও অফেসে গিয়েছিলাম। সেখানে বলা হয়, আমি নাকি ভোটার তালিকায় মৃত। বেঁচে থাকা সত্ত্বেও ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছি না। আমি এখন কোনও কাজই করতে পারব না। সরকারি সুযোগ-সুবিধা না মিললে কী করে চলবে? সাড়ে চারবছর আগে আমার স্ত্রী মারা গেলেও ভোটার তালিকায় সে জীবিত। এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য সহ অনেক নেতাই আমাকে চেনেন। আমি তালিকা সংশোধনের জন্য অনুরোধ জানালেও কাজ হয়নি।
স্থানীয় বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য প্রসেনজিৎ মাল বলেন, ধীরেনবাবু এই এলাকারই বাসিন্দা। ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ পড়ার বিষয়টি বিডিও অফিসে জানালেও কাজ হয়নি। তৃণমূলের নারায়ণপুর অঞ্চল সভাপতি মিলন শেখ বলেন, ওই বৃদ্ধ আমাদের জানালে নিশ্চয়ই ব্যবস্থা করতাম।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ