সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: ফরাক্কার গঙ্গায় প্রায়ই ভেসে উঠছে মৃত শুশুক ও একাধিক মাছ। রাসায়নিক ও বিষ প্রয়োগের ফলে জলজ প্রাণীরা মারা যাচ্ছে বলে বাসিন্দাদের দাবি। বেশি মুনাফার লোভে একশ্রেণির অসাধু মৎস্যজীবী এই বেআইনি কাজ করে চলেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এর বিহিত চেয়ে ইতিমধ্যেই প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন বাসিন্দারা। ফরাক্কা মৎস্য দপ্তর, ব্লক অফিস ও থানায় মাস পিটিশন জমা দেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। রাসায়নিক প্রয়োগের ফলে গঙ্গার জল দূষিত হওয়ায় অত্যন্ত উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ। গঙ্গার জল পানীয় হিসেবে এবং অনেকে রান্নার কাজেও ব্যবহারে করে থাকেন। প্রশাসনের তরফে এবিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়।
ফরাক্কার এফইও (ফিশারিজ এক্সটেনশন অফিসার) সুনীত পাল বলেন, মৃত শুশুকের বিষয়টি শুনেছি। যদিও এটা বনদপ্তরের অধীনে পড়ে। নদীতে রাসায়নিক প্রয়োগ ও মাছ মারা যাওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এর জন্য ব্যাপক সচেতনতা প্রচার চালানো প্রয়োজন। বিডিও জুনায়েদ আহমেদ বলেন, রাসায়নিক প্রয়োগ করা বা ফিলামেন্ট নেট দিয়ে মাছ ধরা নিষিদ্ধ। ছোট মাছ না ধরতেও মৎস্যজীবীদের বলা হয়। এবিষয়ে যাতে আরও বেশি প্রচার চালানো হয় তারজন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রচার চালাতে বলা হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বেশি ও বড় মাছের লোভেই গঙ্গার জলে বিষ প্রয়োগ করছে এক শ্রেণির অসাধু মৎস্যজীবী। বিষ প্রয়োগে জল দূষিত হওয়ায় জলজ প্রাণীদের মৃত্যু হচ্ছে। জলজ প্রাণীর মৃত্যুতে আতঙ্কিত বাসিন্দারা। পানীয় জল থেকে রান্নাবান্না ও নানাবিধ কাজে তাঁরা গঙ্গার জল ব্যবহার করে থাকেন। ফরাক্কা পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ মালতি মণ্ডলের স্বামী বাবলু ঘোষ বলেন, এবিষয়ে আমরা একাধিকবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। জলে রাসায়নিক প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে জানতে পেরেছি। জলজ প্রাণীও মারা যাচ্ছে। এছাড়া এই জল মানুষ পানীয় সহ নানা কাজে ব্যবহার করে থাকে। দূষিত জলের মাছ খেলে ও এই জল পান করলে জনজীবনে ও খারাপ প্রভাব পড়বে। এবিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আমরা প্রশাসনকে বলেছি।মৎস্যজীবী মেঘলাল সরকার বলেন, কয়েকজন মৎস্যজীবী বেআইনিভাবে এই কাজ করছে। এতে ছোট মাছও মারা যাচ্ছে। ফলে, আমরা সমস্যায় পড়ছি, এটা বন্ধ হওয়া দরকার। ফরাক্কা বাগদাপাড়া বিট অফিসার প্রভাস মণ্ডল বলেন, সম্প্রতি শুশুক মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা গিয়েছিলাম। কিন্তু, মৃত শুশুক আমাদের নজরে আসেনি। তবে জলে রাসায়নিক ব্যবহার করে মাছ ধরা নিষিদ্ধ।