


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও সংবাদদাতা, বসিরহাট: সিজারিয়ান অপারেশন করে জন্ম দেওয়া হয়েছিল সাতমাসের এক শিশুকে। তবে সিজারের পর নবজাতককে ‘মৃত’ বলে ঘোষণা করে ওই নার্সিংহোম। এদিকে বাড়ি নিয়ে গিয়ে শেষকৃত্যের প্রস্তুতির মাঝেই আচমকা নড়াচড়া করে ওঠে সেই শিশু। পরে শিশুটিকে আশংকাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বসিরহাটের ওই নার্সিংহোমকে সম্পর্কে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন।
জানা গিয়েছে, স্বরূপনগর থানার বারঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা রুবিনা পারভিনকে বুধবার দুপুরে বসিরহাটের ওই নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। সেখানেই সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তানের জন্ম দেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, জন্মের পরপরই চিকিৎসকরা শিশুটিকে মৃত বলে জানান। এরপর শিশুটিকে বাড়ি নিয়ে গিয়ে শেষকৃত্যের প্রস্তুতি চলছিল। সেই সময়ই পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে, শিশুটি নড়ছে। তড়িঘড়ি তাকে নিয়ে আবার বসিরহাটে ফেরেন তাঁরা। অভিযোগ, ওই নার্সিংহোমে তখন কোনও চিকিৎসক ছিলেন না। পরে শিশুটিকে বসিরহাটের অন্য একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে শিশুটি বসিরহাট হাসপাতালের পুরনো ভবনে চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তার অবস্থা সংকটজনক।
প্রশ্ন উঠেছে, সাতমাস অবস্থায় কেন সিজারের সিদ্ধান্ত নিল নার্সিংহোমটি? কীভাবে জীবিত শিশুকে মৃত বলে ঘোষণা করা হল? যদিও নার্সিংহোমের তরফে এ বিষয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। এনিয়ে পরিবারের সদস্য শেখ আলামিন বলেন, নার্সিংহোম থেকে শিশুকে মৃত বলে জানানো হয়েছিল। যদিও তাতে আমাদের সন্দেহ ছিল। তারপরই এই ঘটনা। একটা নার্সিংহোম যে এমন দায়িত্বহীন কাজ করতে পারে, তা আমাদের জানা ছিল না। আমরা বিষয়টি নিয়ে দপ্তরে অভিযোগ জানানোর কথা বলছি। কঠোর পদক্ষেপ চাই। আর শিশুটির অবস্থা এখনো সংকটজনক।