সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: রবিবার দুপুরে হঠাৎই রক্তাক্ত অবস্থায় এক ব্যক্তি ময়নাগুড়ি থানায় এসে চিৎকার করতে থাকেন, বলেন— মাকে বাঁচান। ওই চিৎকার শুনে থানার অফিসাররা রুম থেকে বেরিয়ে আসেন। তাঁরা দেখেন, এক ব্যক্তি খালি গায়ে রক্তাক্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে। তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে। পুলিস ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁর বৃদ্ধ মাকেও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। বৃদ্ধাকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে জানান। পুলিস জানিয়েছে, মৃতার নাম সুনীতি রায় (৬৫)।
Advertisement
অভিযোগ, ছোট ছেলের ধারালো কাটারির কোপে মৃত্যু হয়েছে বৃদ্ধার। দাদার মাথায়ও ধারালো অস্ত্র দিয়েও একাধিকবার আঘাত করেছে অভিযুক্ত। ঘটনার পর অভিযুক্ত যুবক পালানোর চেষ্টা করে। তবে তার আগেই ময়নাগুড়ি থানার পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতের নাম বাপি রায়। রবিবার এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যে ছড়ায় ময়নাগুড়ি ব্লকের শিঙিমারিতে। তদন্তের স্বার্থে পুলিস বাড়িটি সিল করে দিয়েছে।
মৃতার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাকে কাটারি অস্ত্র দিয়ে কোপ মারে ছোট ছেলে বাপি। ওর দাদা দিলীপকে সকালে মা সুনীতি রায় আগে চা দিয়েছিল। আর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় বচসা। ছোট ছেলে বাপি ক্ষিপ্ত হয়ে কাটারি দিয়ে কোপ মারে মায়ের গলায়। দাদা দিলীপ মাকে বাঁচাতে এলে তাঁকেও মাথায় এলোপাথাড়ি কোপ মারা হয় বলে অভিযোগ।
থানায় দাঁড়িয়ে অভিযুক্ত জানায়, মা দাদাকে বেশি ভালোবাসে। প্রতিবেশীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃদ্ধার দুই ছেলের কেউই সেভাবে তেমনকিছু কাজ করেন না। সুনীতি রায়ের স্বামী প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। স্বামী মারা যান। তাঁর পেনশনের টাকায় সংসার চলে। ওই বাড়িতে প্রায়ই ঝামেলা লেগে থাকে। ছোট ছেলে বিয়েও করেছে। কিন্তু পারিবারিক অশান্তির কারণে ছেলের বউ বাপেরবাড়ি থাকে। এদিন যে এমনকিছু হয়ে যাবে তা প্রতিবেশীরাও আঁচ করতে পারেননি। স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তফা রহমান বলেন, ওই পরিবারের সদস্যরা প্রায় নিজেদের মধ্যে বিবাদে জড়ায়। এদিন যা হল তা একেবারেই অনভিপ্রেত ছিল। মৃতার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাকে কাটারি অস্ত্র দিয়ে কোপ মারে ছোট ছেলে বাপি। ওর দাদা দিলীপকে সকালে মা সুনীতি রায় আগে চা দিয়েছিল। আর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় বচসা। ছোট ছেলে বাপি ক্ষিপ্ত হয়ে কাটারি দিয়ে কোপ মারে মায়ের গলায়। দাদা দিলীপ মাকে বাঁচাতে এলে তাঁকেও মাথায় এলোপাথাড়ি কোপ মারা হয় বলে অভিযোগ।
ময়নাগুড়ি থানার আইসি সুবল ঘোষ বলেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আহত একজনকে ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতাল পাঠানো হয়েছিল। তাঁকে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটিতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। জখম দিলীপ রায় বলেন, প্রথমে মাকে পরে আমাকে কাটারি দিয়ে কোপায় ভাই। ওর অভিযোগ, মা না কি আমাকে বেশি ভালোবাসে। নিজস্ব চিত্র।



