Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দাদাগিরির অভিযোগ, তৃণমূল প্রধানের বিরুদ্ধে থানায় খোদ দলেরই কাউন্সিলার

দাদাগিরির অভিযোগ, তৃণমূল প্রধানের বিরুদ্ধে থানায় খোদ দলেরই কাউন্সিলার
  • ১১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: গাড়ির হর্ন দেওয়া নিয়ে ঝামেলা। আর এরই জেরে চালককে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠল জলপাইগুড়ির অরবিন্দ পঞ্চায়েতের প্রধান তৃণমূলের রাজেশ মণ্ডলের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাতে জলপাইগুড়ি শহর লাগোয়া নবারুণ সঙ্ঘ মোড় এলাকায়। মারধরের পাশাপাশি গাড়িতে থাকা যাত্রীদের কাছ থেকে সোনা ও রুপোর হার এবং টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে মঙ্গলবার লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায়। 
Advertisement
শাসকদলের ওই প্রধানের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, গাড়িতে থাকা মহিলাদের গায়ে হাত তুলেছেন তিনি। তাঁদের সঙ্গে অভব্য ব্যবহার করেছেন। প্রধান ও তাঁর দলবদলের রোষের হাত থেকে রেহাই পায়নি গাড়িতে থাকা শিশু। তাকেও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ জমা পড়েছে থানায়। এদিন অভিযোগকারীদের নিয়ে থানায় হাজির হন জলপাইগুড়ি পুরসভার তৃণমূলেরই ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মহুয়া দত্ত। থানা চত্বরে দাঁড়িয়ে দলের ওই প্রধানের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবিতে সরব হন তিনি। বলেন, আমার ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের গায়ে হাত তোলা হয়েছে। অভিযুক্ত যতই আমাদের দলের প্রধান হোন না কেন, তাঁকে রেয়াত করার কোনও প্রশ্ন নেই। পুলিসকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যে ও সাজানো বলে দাবি করেছেন অরবিন্দ পঞ্চায়েতের প্রধান রাজেশ মণ্ডল। তাঁর দাবি, বেপরোয়া গতিতে যাওয়ার সময় জলপাইগুড়ির ৫ নম্বর গুমটি এলাকায় ওই গাড়ির চালক রাস্তা দিয়ে যাওয়া মহিলাদের উদ্দেশ্যে কটূক্তি করেন। ফোন করে মহিলারা বিষয়টি জানান। এরপরই নবারুণ সঙ্ঘ ক্লাব মোড়ে গাড়িটি আটকানো হয়। বিষয়টি চালকের কাছে জানতে চাওয়া হয়। এনিয়ে কিছুটা কথা কাটাকাটি হয়েছে। কিন্তু মারধর কিংবা ছিনতাইয়ের অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যে। এর পিছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁর। কোতোয়ালি থানার আইসি সঞ্জয় দত্ত বলেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখছে পুলিস।
জলপাইগুড়ি পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সেনপাড়া, রবীন্দ্রনগর কলোনির বাসিন্দা দীপু সরকারের অভিযোগ, পরিবারিক কাজে তাঁরা গাড়ি নিয়ে ৫ নম্বর গুমটি এলাকায় গিয়েছিলেন। সোমবার রাত দশটা নাগাদ ফিরছিলেন। তিনিই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। গাড়িতে তাঁর স্ত্রী, সন্তান সহ পরিবারের অন্যরা ছিলেন। নবারুণ সঙ্ঘ মোড়ের কাছে একটি গাড়ি দাঁড়ানো ছিল। গাড়ির পাশে কয়েকজন দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি হর্ন দিয়ে পাশ দিয়ে গাড়ি নিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখনই তাঁর উপর চড়াও হন ওই গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন। আমি কেন হর্ন দিলাম, তার কৈফিয়ৎ চেয়ে আমাকে মারধর শুরু করেন কয়েকজন। তাঁদেরই মধ্যে থেকে একজন বলেন, আমায় চিনিস? আমি রাজেশ মণ্ডল। দীপু সরকারের স্ত্রীর অভিযোগ, আমার সঙ্গেও অভব্য আচরণ করা হয়েছে। আমার সন্তানকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয়।
সম্পর্কিত সংবাদ