Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দ্বিতীয় স্থান অধিকার করলেও বাম-সমঝোতায় প্রশ্ন নৌশাদের

দ্বিতীয় স্থান অধিকার করলেও বাম-সমঝোতায় প্রশ্ন নৌশাদের
  • ২৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের ছ’টি বিধানসভা উপ নির্বাচনে সব ক’টিতেই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে বৃহত্তর বাম জোটের। এই অবস্থায় যারা বাম ও সহযোগীদের সামান্য হলেও মানরক্ষা করতে পেরেছে রাখে, তারা আইএসএফ। হাড়োয়া বিধানসভা উপ নির্বাচনে সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজেপিকে পিছনে ফেলে দ্বিতীয় হয়েছেন খাম চিহ্নের প্রার্থী। বাঁকুড়ার তালডাংরার সিপিএম প্রার্থী ১০ শতাংশের আশপাশে ভোট পেয়েছেন। তাহলে কি ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে আলিমুদ্দিনের কাছে আরও বেশি আসনের ন্যায্য দাবিদার হয়ে উঠল নৌশাদ সিদ্দিকির দল? আইএসএফ বলছে, ওসব তো পরের কথা। আগে তৃণমূল স্তরে ভালোভাবে জোট করতে হবে। অর্থাৎ ‘শূন্য’র আবহে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে আসন সমঝোতার প্রশ্নে আলিমুদ্দিনের আকাশে কালো মেঘ দেখা যাচ্ছে এখন থেকেই। 
Advertisement
এই উপ নির্বাচনে ৬টি কেন্দ্রেই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে বামফ্রন্ট মনোনীত ও সমর্থিত প্রার্থীদের। লিবারেশন এবং বামফ্রন্টের শরিক দলগুলির অবস্থা রীতিমতো শোচনীয়। সিতাইয়ে ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থী দেড় শতাংশ, মাদারিহাটে আরএসপি আড়াই শতাংশের কম এবং নৈহাটিতে লিবারেশনের প্রার্থী ছয় শতাংশ ভোট পেয়েছেন। মেদিনীপুরে সিপিআই সাড়ে পাঁচ শতাংশ ভোট পেয়েছে। প্রদত্ত ভোটের এক ষষ্ঠাংশ সমর্থন পেলে তবেই জামানত রক্ষা হয়। সিতাইয়ে বামেরা কংগ্রেসেরও পিছনে চলে গিয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বাম শিবিরের প্রার্থীদের মধ্যে ‘ফার্স্ট বয়’ হলেও হাড়োয়াতে আইএসএফ প্রার্থীরও জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। দলের একমাত্র বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকি বলছেন, ‘২০২৬ সালে জোট কী হবে, সেটা পরের কথা। একটা বিষয় ভাবাচ্ছে, রাজ্যস্তরে জোট হলেও তৃণমূল স্তরে সিপিএমের সঙ্গে আমাদের ভালো জোট হয়নি। গত লোকসভায় বামেদের যা ভোট ছিল, সেই ভোট আমাদের কাছে আসেনি। আমি আগে বামফ্রন্টের রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলব। বাকিটা বলে দেবে সময়।’ 
সিপিএম অবশ্য গত লোকসভা ভোটের বিধানসভা ভিত্তিক ফলাফল সামনে আনছে। বাম নেতৃত্বের বক্তব্য, গত লোকসভা ভোটের নিরিখে তালডাংরা ও মেদিনীপুরে বামেদের ভোট বেড়েছে। কিন্তু ২০২১ সালের বিধানসভার সঙ্গে তুলনা করলে তালডাংরাতেও ভোট কমেছে বামেদের। সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘আর জি কর আন্দোলনকে নির্বাচনের কর্মসূচি হিসেবে আমরা ভাবিনি। কোথাও ভোট খানিক বেড়েছে। তৃণমূল ৮০-৮৫ ভাগ ভোট পেয়েছে। বোঝাই যাচ্ছে!’ আইএসএফের সঙ্গে তৃণমূল স্তরে জোটের প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ‘সেটা পর্যালোচনার বিষয়। আমি বলব, হাড়োয়াতে আমরা দ্বিতীয় হয়েছি।’ 
সম্পর্কিত সংবাদ