Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ এখনও বাকি, তারাপীঠ মন্দিরের উন্নয়নে তৃতীয় ওয়ার্ক অর্ডার ইস্যু

দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ এখনও বাকি, তারাপীঠ মন্দিরের উন্নয়নে তৃতীয় ওয়ার্ক অর্ডার ইস্যু
  • ৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
বলরাম দত্তবণিক, রামপুরহাট: দীর্ঘদিন ধরে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ থমকে রয়েছে। এরই মধ্যে তারাপীঠ মন্দিরের উন্নয়নে তৃতীয় পর্যায়ের কাজের ওয়ার্ক অর্ডার ইস্যু হয়েছে। স্বভাবতই কবে মা তারার মন্দির নবরূপ পাবে তা নিয়ে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। কয়েক বছর আগে তারাপীঠ মন্দিরে পুজো দিতে ঘিঞ্জি পরিবেশ নিজের চোখে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই খোলামেলা পরিবেশ তৈরির জন্য প্রথম পর্যায়ে প্রায় দুই কোটি টাকা টিআরডিএকে বরাদ্দ করেন। ৩২৬০ বর্গফুট জায়গা নিয়ে তারাপীঠ মন্দির চত্বর। যার মধ্যে ৩৫০ বর্গফুট জায়গার উপর মায়ের গর্ভগৃহ রয়েছে। সেই গর্ভগৃহ অক্ষত রেখে প্রথম পর্যায়ে খনন কার্য চালিয়ে ৫০ শতাংশ আন্ডারগ্রাউন্ডের কাজ শেষ হয়েছে। পশ্চিম দিকে মাটির তলায় ইতিমধ্যে ৭০ ফুট লম্বা ২৫ ফুট চওড়া ভোগঘর ও খাওয়ার ঘর তৈরি করা হয়েছে।  আর উপরের অংশ চাতাল হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
Advertisement
২০২০ সালে বোলপুরে প্রশাসনিক বৈঠকে তারাপীঠের দ্বিতীয় পর্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজের জন্য আরও ছয় কোটি টাকা বরাদ্দ করেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর গত বছরের শুরুতে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু করে টিআরডিএ। সেইমতো নারায়ণ, হনুমান ও বামদেবের প্রাচীন মন্দির ভেঙে একপাশে নতুন মন্দির নির্মাণ করা হয়। গতবছর অক্ষয় তৃতীয়ার দিন নবনির্মিত মন্দিরে সেইসব বিগ্রহ আবার প্রতিষ্ঠা করা হয়। তারপর থেকেই থমকে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ।  
টিআরডিএ সূত্রে জানানো হয়েছে, দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজে পূর্বদিকে খননকার্য চালিয়ে ২৫০০ বর্গফুট আন্ডারগ্রাউন্ডের কাজ করার কথা। মন্দির চত্বরে থাকা পুজো দেওয়ার লাইনের জন্য ফুটব্রিজ ভেঙে দেওয়া।  জীবিতকুণ্ড থেকে আন্ডারগ্রাউন্ড দিয়ে ভক্তরা গর্ভগৃহ লাগোয়া বিরামমঞ্চের কাছে উঠবেন। এতে মন্দিরের চাতাল আরও বড় হবে। জীবিতকুণ্ড সহ মন্দিরের সীমানা প্রাচীর দিয়ে চারদিক সৌন্দর্যায়ন করা হবে। জীবিতকুণ্ড পাড়ে ভক্তদের বসায় জায়গা, অফিস বিল্ডিং, ভিআইপিদের ঢোকার দরজা সহ নানা কাজ করা হবে। কিন্তু সেই কাজ থমকে রয়েছে। এরই মধ্যে গত বছরের নভেম্বর মাসে তৃতীয় পর্যায়ের কাজের জন্য ২ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেন মুখ্যমন্ত্রী। 
সম্প্রতি তৃতীয় তথা শেষ পর্যায়ের কাজের ওয়ার্কঅর্ডারও ইস্যু করেছে টিআরডিএ। দ্বিতীয় পর্যায়ের থমকে থাকা কাজই শুরু হয়নি। যা অনেক আগেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ কেন থমকে? টিআরডিএর এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার অসীম নশিপুরী বলেন, হাজার হাজার পর্যটকদের ভিড়ে ঠিকাদার সংস্থা কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না। মন্দির কমিটি জায়গা ছেড়ে না দিলে কী করে কাজ করবে। কারণ, আন্ডারগ্রাউন্ডের কাজ করতে গেলে উপরের অংশ ভাঙতে হবে। শুধু তাই নয়, চারিদিক ঘিরে সেই খননকার্য করতে হবে। একবার শুরু হয়ে কিছুটা কাজ হয়েছে। ফের কাজ শুরু করতে গেলে বলা হয় সামনে উৎসব, এখন বন্ধ থাক। তৃতীয় পর্যায়ের কাজেরও বরাত পেয়েছে একই সংস্থা। এখন ওই সংস্থা চাইছে দুটি পর্যায়ের কাজ একসঙ্গে শুরু করতে।  
যদিও মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় বলেন, টিআরডিএর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ভিড় কিছুটা কমলেই কাজ শুরু হয়ে যাবে। অন্যদিকে টিআরডিএর ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, পৌষমাসে মন্দিরে ব্যাপক ভিড় হচ্ছে। এই মাস শেষ হলেই কাজ শুরু হয়ে যাবে। চেয়ারম্যান আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। বিষয়টি দেখছি।
সম্পর্কিত সংবাদ