নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গ তুলে কংগ্রেসকে তুলোধোনা আগেও করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু বৃহস্পতিবার তাৎপর্যপূর্ণভাবে জরুরি অবস্থা নিয়ে কংগ্রেসের সমালোচনায় মোদি টেনে আনলেন দেবানন্দ, কিশোর কুমারের মতো বিশিষ্টদের প্রসঙ্গও। এদিন রাজ্যসভায় রাষ্ট্রপতির অভিভাষণের উপর আলোচনা শেষে জবাবি ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইমার্জেন্সি আমরা অনেকেই সারা জীবন ভুলতে পারব না। জরুরি অবস্থা কার্যকর আদতে কংগ্রেসের ক্ষমতায় টিকে থাকার লোভের পরিমাণ। তবে তা এতই মারাত্মক যে, দেবানন্দ, কিশোর কুমার, হৃদয়নাথ মঙ্গেশকর, মাজরুহ সুলতানপুরী, বলরাজ সাহানির মতো বিশিষ্টদেরও রেয়াত করেনি তারা। রাজ্যসভার জবাবি ভাষণে এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিশিষ্ট অভিনেতা দেবানন্দকে প্রকাশ্যেই জরুরি অবস্থা সমর্থন করতে বলেছিল কংগ্রেস। তিনি তা করেননি। ফলে তাঁর যাবতীয় ছবি দূরদর্শনে নিষিদ্ধ করা হয়। একইভাবে কিশোর কুমারকে এর সমর্থনে গান গাইতে বলা হয়েছিল। তিনিও তা করেননি। ফলে আকাশবাণী তাঁর সমস্ত গান শোনানো বন্ধ করে দেয়। লতা মঙ্গেশকরের ভাই হৃদয়নাথ মঙ্গেশকর বীর সাভারকরের উপর লেখা তাঁর একটি কবিতা অল ইন্ডিয়া রেডিওতে পড়তে চেয়েছিলেন। ‘শাস্তি’ হিসেবে তাঁকে চিরদিনের জন্যই আকাশবাণী ‘ব্যানড’ করে দেয়। মুম্বইয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের একটি ধর্মঘট চলছিল। সেখানে বিশিষ্ট করে মাজরুহ সুলতানপুরী একটি কবিতা পাঠ করেন। শুধু সেই অপরাধে তাঁকে জেলবন্দি করা হয়। প্রতিবাদ বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় অভিনেতা বলরাজ সাহানিকেও জেলে পুরতে ভাবেনি কংগ্রেস।
Advertisement
বৃহস্পতিবার মোদি অভিযোগ করেছেন, আদতে বাবাসাহেব বি আর আম্বেদকরকে ঘৃণা করত কংগ্রেস। তাঁর উপর রাগ ছিল। বাবাসাহেবকে হারানোর জন্য একের পর এক পরিকল্পনা করেছে তারা। এমনকী বাবাসাহেবকে ভারতরত্ন দেওয়ার কথাও কংগ্রেসের মাথায় আসেনি। এখন রীতিমতো দায়ে পড়ে জয় ভীমের স্লোগান দিতে হচ্ছে কংগ্রেসকে। যদিও এর তুমুল প্রতিবাদ করেন কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদরা। আসনে দাঁড়িয়ে তুমুল চিৎকার করতে থাকেন। শুরু হয় প্রবল হট্টগোলও। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন বলেন, যেভাবে এনডিএ সরকার রাষ্ট্রপতির অভিভাষণ লিখে দিয়েছে, ঠিক একইভাবে রাজ্যসভায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণও লেখা হয়েছে। এটি একটি ওল্ড স্ক্রিপ্ট, পুরনো স্পিচ।
তাঁদের উদ্দেশ করে মোদি বলেন, না চাইলেও আপনাদের একটি উপদেশ দিচ্ছি। আপনারা আগে নিজের পরিসর বৃদ্ধি করুন। তা না করে অন্যের পরিসর ছোট করার কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখছেন। নিজের পরিসর বৃদ্ধি করলে হয়তো আগামীতে ১০ মিটার এগিয়েও বসতে পারেন। অর্থাৎ, সংসদে বিরোধী বেঞ্চের কয়েক হাত দূরে ট্রেজারি বেঞ্চেও জায়গা হতে পারে তাদের! প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিকশিত ভারতকে যে অচ্ছুত করবে, দেশের মানুষ তাকেই ছুঁড়ে ফেলে দেবে। কংগ্রেসের রাজনীতিতে সবকা সাথ, সবকা বিকাশ ছিল না। শুধু পরিবারবাদ, তোষণ ছিল। মোদি সরকার সন্তুষ্টিকরণের নীতি নিয়েছে। রাজ্যসভার বিরোধী নেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গেকে কটাক্ষ করতে গিয়ে নীরজজির কবিতা পড়ে শোনান মোদি।
তাঁদের উদ্দেশ করে মোদি বলেন, না চাইলেও আপনাদের একটি উপদেশ দিচ্ছি। আপনারা আগে নিজের পরিসর বৃদ্ধি করুন। তা না করে অন্যের পরিসর ছোট করার কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখছেন। নিজের পরিসর বৃদ্ধি করলে হয়তো আগামীতে ১০ মিটার এগিয়েও বসতে পারেন। অর্থাৎ, সংসদে বিরোধী বেঞ্চের কয়েক হাত দূরে ট্রেজারি বেঞ্চেও জায়গা হতে পারে তাদের! প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিকশিত ভারতকে যে অচ্ছুত করবে, দেশের মানুষ তাকেই ছুঁড়ে ফেলে দেবে। কংগ্রেসের রাজনীতিতে সবকা সাথ, সবকা বিকাশ ছিল না। শুধু পরিবারবাদ, তোষণ ছিল। মোদি সরকার সন্তুষ্টিকরণের নীতি নিয়েছে। রাজ্যসভার বিরোধী নেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গেকে কটাক্ষ করতে গিয়ে নীরজজির কবিতা পড়ে শোনান মোদি।



