সংবাদদাতা, কান্দি: যুবকের ইচ্ছে ছিল ঋণ নিয়ে বিদেশে কাজ করতে যাবেন। এরপর মাইনের টাকা থেকে ধীরে ধীরে সেই ঋণ শোধ করবেন। প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা ঋণও নিয়েছিলেন। কিন্তু এক দালালের খপ্পরে পড়ে সব গেল। পলাতক ছেলের ঋণের টাকা শোধ করতে না পেরে আত্মহত্যা করলেন বাবা। ঘটনাটি বড়ঞা থানার বধূয়া গ্রামের। মৃতের নাম জমিরুদ্দিন শেখ (৬৯)। বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি গাছে বৃদ্ধের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। কয়েকমাস আগেও মৃত বৃদ্ধের পরিবারে সাতজন সদস্য ছিল। অভাব সত্ত্বেও সকলেই হাসিমুখে থাকতেন। এর আগে বেসরকারি সংস্থা ঋণ নিয়ে বাড়ির ছোটখাটো কাজ করেছেন, শখও মিটিয়েছেন। কিন্তু এবারেই বিপত্তি বাধল। মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ন’ মাস আগে মৃতের ছেলে সেলিম শেখের স্ত্রী সাবিনা বিবির নামে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, ওই টাকায় সৌদি আরবে গিয়ে সেলিম কাজ করবেন। পরে মাইনের টাকা থেকে ঋণ শোধ করবেন। সেইমতো স্থানীয় এক দালালকে ঋণের আড়াই লক্ষ টাকাও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি। কিন্তু দালালের বিশ্বাসভঙ্গ করে। পরিবারের অভিযোগ, দালাল পুরো টাকা আত্মসাত করে এলাকা থেকে পালিয়ে গিয়েছে। এরপর থেকেই পরিবারে বিপদ নেমে আসে।
Advertisement
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছিল কয়েকটি রেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে। এত ঝামেলার মধ্যেও যুবক কয়েকটি কিস্তি শোধও করেছিল। কিন্তু তারপর আর না পেরে সেলিম শেখ স্ত্রী ও তিন কন্যাকে নিয়ে মুম্বই চলে যান। বর্তমানে সেখানেই রয়েছেন তাঁরা। কিন্তু সেলিম মুম্বই পাড়ি দিলেও সংস্থার কর্মীরা প্রতিনিয়ত তাঁর পরিবারের উপর টাকা শোধের জন্য চাপ দিতে থাকে। মৃতের দাদা কিরণ শেখ বলেন, ঋণ শোধ করার জন্য প্রতিদিন সংস্থার জনাকয়েক কর্মী বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ভাইয়ের বাড়িতে এসে বসে থাকত। ওরা ঋণ শোধের জন্য ভাইকে চাপ দিত। হেনস্তা করে ভাইকে বলত, বউমার নামে ঋণ হলেও সেই টাকা ভাইকেই শোধ করতে হবে। তা না হলে আইনত ব্যবস্থা নেবে। এমনকী ভাইয়ের একমাত্র সম্বল বাড়িটি বিক্রি করার জন্যও চাপ দিত। মৃতের স্ত্রী সেলিনা বিবি বলেন, ঋণ আদায়কারীরা স্বামীকে প্রতিদিন এসে অপমান করত। স্বামীর রাস্তায় বেরনোও দায় হয়ে পড়েছিল। লজ্জায়, ভয়ে স্বামী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। যদিও এক ঋণ আদায়কারী প্রশান্ত দাস বলেন, আমাদের কিছু করার ছিল না। কোম্পানি থেকে আমাদের চাপ দেওয়া হতো। তবে বৃদ্ধকে হেনস্তা বা জোবরদস্তি করা হয়নি।
মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার বিকেলে ফের কয়েকজন ঋণ আদায়কারী বৃদ্ধের বাড়িতে আসে। তাঁরা প্রায় চারঘণ্টা ধরে সেখানে ছিল। ওই চারঘণ্টা ধরে বৃদ্ধকে ঋণ পরিশোধের জন্য সর্বক্ষণ চাপ দেওয়া হচ্ছিল। তাতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বৃদ্ধ। এরপর রাতে কোনও একসময় বাড়ির কিছুটা দূরে একটি গাছে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে পড়েন। পরে সকালে গ্রামের লোকজনের নজরে এলে পুলিসকে খবর দেওয়া হয়। এই ঘটনায় গ্রামে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। বড়ঞা থানার পুলিস জানিয়েছে, মৃত্যুর কারণ নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার বিকেলে ফের কয়েকজন ঋণ আদায়কারী বৃদ্ধের বাড়িতে আসে। তাঁরা প্রায় চারঘণ্টা ধরে সেখানে ছিল। ওই চারঘণ্টা ধরে বৃদ্ধকে ঋণ পরিশোধের জন্য সর্বক্ষণ চাপ দেওয়া হচ্ছিল। তাতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বৃদ্ধ। এরপর রাতে কোনও একসময় বাড়ির কিছুটা দূরে একটি গাছে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে পড়েন। পরে সকালে গ্রামের লোকজনের নজরে এলে পুলিসকে খবর দেওয়া হয়। এই ঘটনায় গ্রামে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। বড়ঞা থানার পুলিস জানিয়েছে, মৃত্যুর কারণ নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



