Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দ্বিগুণ দামে বিকোচ্ছে পাঞ্জাবের আলুবীজ, মাথায় হাত চাষিদের  

দ্বিগুণ দামে বিকোচ্ছে পাঞ্জাবের আলুবীজ, মাথায় হাত চাষিদের  
  • ২১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: সারের দাম অনেক আগেই আকাশ ছুঁয়েছে। এবার বীজের দামও দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই আলু চাষিদের মাথায় হাত পড়ে গিয়েছে। এরাজ্যের আলু চাষিদের এখনও পাঞ্জাবের বীজের উপরই ভরসা করতে হয়। জেলায় জ্যোতি আলু সবচেয়ে বেশি চাষ হয়। গত বছর ৫০কেজি এই আলুবীজের দাম ছিল ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা। এবার সেটা প্রায় ৩  হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর চাষিদের দু’বার আলুবীজ রোপণ করতে হয়েছিল। বৃষ্টির জন্য প্রথমবার বহু জমির আলু গাছ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয়বার বীজ রোপণ করার সময় এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা ফায়দা তোলে। অনেক বেশি দামে আলুবীজ বিক্রি করে। কিন্তু এবার প্রথম থেকেই আলুবীজের দাম ঊর্ধ্বমুখী। চাষিরা বলেন, কয়েকবছর ধরে জেলায় কলম্বিয়া আলু চাষ হচ্ছে। সেই বীজের দামও এবার অনেক বেশি। হিমালিনী আলুবীজ গত বছর ২ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এবার তা ৫০ কেজি ৩ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মেমারি-২ ব্লকের আলু চাষি সুশান্ত কুমার বলেন, এত খরচ করার পর লাভ না পাওয়া গেলে চাষিদের আর্থিক অবস্থা খারাপ হবে। অনেকে দেনা করে চাষ করছেন। সারের দাম কয়েক বছর ধরেই চড়া রয়েছে। তারপর এভাবে আলুবীজের দাম বেড়ে যাচ্ছে। বীজ উৎপাদনে রাজ্য স্বনির্ভর হলে এই সমস্যা ততটা থাকে না। চাষিদের অভিযোগ, এক শ্রেণির ব্যবসায়ী ফায়দা তোলার জন্য ইচ্ছেকৃতভাবে কম বীজ পাঞ্জাব থেকে আনছে। যোগানের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকার জন্যই দাম বেড়ে যাচ্ছে।
Advertisement
কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় অল্প কিছু এলাকায় চন্দ্রমুখী আলু চাষ হয়। সেই বীজের দাম আরও বেশি। অনেকে ইচ্ছে থাকলেও এই আলু চাষ করতে পারছে না। আরেক চাষি বলেন, মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি ২ বছর ধরে প্রকৃতিও বিমুখ হচ্ছে। অসময়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় আলু জমি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। দু’বার চাষ করার পরও প্রত্যাশামতো দাম পাওয়া যায়নি। বীজের দাম কেন এত বেশি চড়া সেটা প্রশাসনের দেখা উচিত। আধিকারিকরা নজর দেওয়ায় সারের কালোবাজারি অনেকটাই বন্ধ হয়েছে। বীজের দামের বিষয়টিতেও আধিকারিকরা নজর দিলে তাঁরা উপকৃত হবেন বলে চাষিরা জানিয়েছেন। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। কৃত্রিমভাবে কেউ আলুবীজের অভাব দেখানোর চেষ্টা করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সারের কালোবাজারি করলেও একই রকম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাষিদের প্রতারিত করা যাবে না। চাষিরা বলেন, কয়েক দিন আগেও বীজের দাম নিয়ন্ত্রণে ছিল। হঠাৎ করেই দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ