Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দেবী তারার নবান্ন উৎসবে কার্তিকের আরাধনায় মাতলেন তারাপীঠের মানুষ

দেবী তারার নবান্ন উৎসবে কার্তিকের আরাধনায় মাতলেন তারাপীঠের মানুষ
  • ২৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: তামাম বাংলার মানুষ যেমন দুর্গাপুজোর জন্য সারাবছর অধীর অপেক্ষায় থাকেন, তেমনই তারাপীঠ প্রহর গোনে কার্তিক পুজোর জন্য। শনিবার নবান্ন উৎসব উপলক্ষ্যে অসময়ে কার্তিকের আরাধনায় মেতে উঠল গোটা তারাপীঠ। বহু বছর আগে এলাকায় শুরু হয়েছিল কার্তিক পুজো। দিনে দিনে সেদিনের সেই সাদামাটা পুজো আজ উৎসবের চেহারা নিয়েছে। থিম ও আলোকসজ্জার প্রতিযোগিতায় কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন পুজো উদ্যোক্তারা। তারাপীঠে মা তারা আরাধ্যা দেবী। এখানে কোনও মৃন্ময়ী মূর্তি গড়ে দেবীপুজোর চল নেই। মা তারার অঙ্গেই দুর্গা, কালী, সরস্বতী, জগদ্ধাত্রী, লক্ষ্মী, অন্নপূর্ণা সহ সমস্ত দেবীর আরাধনা করা হয়। মূলত, কার্তিক মাসের সংক্রান্তিতে কার্তিক পুজো দেখতে অভ্যস্ত মানুষ। কিন্তু তারাপীঠ তার ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত। অগ্রহায়ণ মাসে নবান্ন উৎসব উপলক্ষ্যে দেবী অন্নপূর্ণার বদলে কার্তিক পুজো করেন এলাকার মানুষ। জানা গেছে, প্রায় ৬৩ বছর আগে নবান্ন উৎসবের দিন তারাপীঠ মন্দির কমিটি প্রথম কার্তিক পুজো করেন। তখন এই একটি মাত্র পুজোকে ঘিরে উন্মাদনা ছিল তারাপীঠবাসীর। বর্তমানে পুজোর সংখ্যা অনেকাটাই বেড়েছে। প্রতিটি মণ্ডপেই মহাদেব শিব ছাড়াও কার্তিক অসুরের লড়াইয়ের দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। বছর যত গড়াচ্ছে ততই এই পুজোর জাঁকজমক বাড়ছে। লেগেছে থিমের ছোঁয়া। তারাপীঠ মন্দির লাগোয়া স্থায়ী মণ্ডপে মৃন্ময়ী মূর্তি গড়ে পুজো করে আসছে তারাপীঠ মিলন সঙ্ঘ। এবার তাঁদের পুজো ৬৩ বছরে পা দিল। থিম পরিবেশ দূষণ রোধ। কমিটির সভাপতি উৎপল রায় বলেন, প্রত্যেক দিনই বেড়ে চলেছে প্লাস্টিকের ব্যবহার। প্লাস্টিকের বিভিন্ন জিনিস ও জলের বোতল, চামচ ব্যবহারের পর তা রাস্তায় বা বাড়ির চারপাশে পড়ে থাকে। এর ফলে বাড়ছে পরিবেশ দূষণ। বাতিল প্লাস্টিকের বোতল বাইরে না ফেলে বরং তাকে নানা আকার ও রূপ দিয়ে বানিয়ে ফেলা যেতে পারে ঘর সাজানোর নানা জিনিস। তাই সেই প্লাস্টিকের বোতল, চামচ দিয়ে মণ্ডপসজ্জা করা হয়েছে। চারদিনের পুজোয় হবে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। 
Advertisement
অন্যদিকে মায়াপুরের মঠের আদলে মণ্ডপ করেছে রবীন্দ্রপল্লি উন্নয়ন সমিতি। এবার তাঁদের পুজো ২৮ বছরে পড়ল। সমিতির অন্যতম সদস্য ঝুলন দত্ত বলেন, দুর্গাপুজোর আনন্দ আমরা কার্তিক পুজোয় সুদে আসলে তুলে নিই। ফিবছর পুজোর চারদিন নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিচিত্রানুষ্ঠান ও যাত্রাপালার আয়োজন করা হয়। এবারও হবে। তারাপীঠ মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় বলেন, দুর্গাপুজোর আনন্দ থেকে অনেক দূরে থাকেন তারাপীঠবাসী। কারণ তারাপীঠে কোনও দেবী মূর্তির চল নেই। তাই অগ্রহায়ণ মাসে একদিকে নবান্ন উৎসব অন্যদিকে কার্তিক পুজোর আনন্দে এখানকার মানুষ উৎসব মুখর হয়ে ওঠেন। এলাকার মেয়ে যাদের বাইরে বিয়ে হয়েছে, তাঁদের পাশাপাশি কর্মসূত্রে যাঁরা বাইরে থাকেন, তাঁরাও এই সময় বাড়ি ফিরে আসেন। নবান্ন উপলক্ষ্যে তারা মাকে নতুন ধানের অন্ন দিয়ে ভোগ নিবেদন করা হয়। এরপরই মণ্ডপগুলিতে পুজো শুরু হয়। প্রতিটি মণ্ডপে পাত পেড়ে ভোগ খাওয়ানোর ব্যবস্থা রয়েছে। এই চারদিন আলোয় ঝলমলিয়ে উঠেছে গোটা সিদ্ধপীঠ।
সম্পর্কিত সংবাদ