সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: কথায় বলে, অন্তর থেকে ভক্তিভরে ডাকলে ঈশ্বরও সাড়া দেন। রাইমার ক্ষেত্রেও কি ঠিক তাই ঘটেছিল? নিজের গায়ে নিজেই চিমটি কেটে এখনও তিনি বিশ্বাসই করতে পারছেন না, ‘আমি কি সেই পান দোকানির মেয়ে রাইমা পাল!’
Advertisement
ছোটবেলা থেকে পরম ভক্তি আর শ্রদ্ধার ভালোবাসর দৌলতে একদিন ‘দেবদর্শন’ হয়েছিল রাইমার। সেই দিনটা যে তাঁর গোটা জীবন প্রবাহকেই বদলে দেবে, তা তিনি ঘুনাক্ষরেও ভাবতে পারেননি। ভাববেই বা কী করে? সাধারণ গরিব বাড়ির মেয়ে, আটপৌরে জীবন। রাতারাতি সেলুলয়েড সেলিব্রিটি হয়ে ওঠা তো আর চাট্টিখানি কথা নয়। তাই হয়তো দেব পরিচালিত ‘খাদান’ সিনেমাটি বারবার দেখেও রাইমার মন ভরে না। প্রতিবাদের ডায়লগটা এভাবে বললে বোধহয় ভালো হতো। ক্যামেরার সামনে পজিশনটা আরও বেশি দৃঢ় হলে বোধহয় জমে যেত। আর পাঁচজন আনকোরা অভিনেত্রীর মনে যে যে প্রশ্ন উঁকি মারে, রাইমার মনেও তাই হয়েছে।
রাইমা বার্নপুরের কলেজ ছাত্রী। বাবা সুদাম পাল পান-চিপস-চকোলেট বিক্রি করেন। বার্নপুর বাজারে তাঁর ছোট্ট গুমটি। দুই মেয়ের মধ্যে রাইমা বড়। খুব কষ্ট করে বড় মেয়েকে কলেজে পড়াচ্ছেন। তার উপর মেয়ের শখ মেটাতে অবস্থা কাহিল। রাইমার শখ একটাই—তিনি দেবের পরম ভক্ত। শিল্পাঞ্চলের কোনও হলে দেবের সিনেমা এলেই তিনি দেখবেনই। না দেখাটাই যেন তাঁর কাছে অপরাধ!
রাইমার তখন পাঁচ বছরের ফুটফুটে মেয়ে। ‘দুই পৃথিবী’ সিনেমাতে প্রিয় অভিনেতা দেবের মৃত্যুর দৃশ্য দেখে সে কি কান্না তার! কিছুতেই থামানো যাচ্ছিল না তাকে। তারপর দিন যত গড়িয়েছে কিশোরী থেকে তরুণী হয়েছে রাইমা। মনের মণিকোঠায় ঠাঁই দেওয়ার ছেলেবেলার নায়ককে আরও বেশি করে শ্রদ্ধার ভালোবাসায় লালন করেছেন। কোনও মন্দির কিংবা তীর্থস্থানে গেলেই দেবের নামে পুজো দিতেন। জন্মদিন পালন করতেন। দেবের নতুন কোনও সিনেমা রিলিজ করলে, তার সাফল্য কামনায় ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতেন। নিজেও প্রথম দিনের প্রথম শো দেখতে যেতেন। খরচ সামলাতে পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে মেহেন্দির কাজ শিখতেন। শিখেই আয় করতে শুরু করলেন। সেই টাকা জমিয়ে ব্যয় করতেন দেব-সাধনায়। এনিয়ে রাইমাকে কম গঞ্জনাও শুনতে হয়নি বন্ধুদের কাছ থেকে। কিন্তু স্বপ্নে অবিচল ছিলেন—একটিবার অন্তত দেবদর্শন করবেনই।
রাইমার স্বপ্নপূরণ হল চলতি বছরের মার্চ মাসে। ‘খাদান’ সিনেমার শ্যুটিংয়ে বাঁকুড়ার বড়জোড়ায় এসেছিলেন টলিউড-স্টার দেব। সিনেমাতে অভিনয় করছেন শিল্পাঞ্চলের যুবক বুলেট মণ্ডল। রাইমা তাঁর কাছেই বায়না ধরে, যে করেই হোক দেবের সঙ্গে একবার দেখা করিয়ে দেওয়ার। কথা রাখে বুলেট। বড়জোড়ায় প্রথম স্বপ্নের নায়ককে দর্শন করেন রাইমা। তার পরের ঘটনা রামবাঁধের মিষ্ঠুর জীবনে রূপকথার মতো। ছ’মাস বাদে রাইমার কাছে ফোন। বলা হয়—তুমি অভিনয় করবে? দেবের সিনেমাতে? নিজের কানকেই যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না রাইমা। আরাধ্য দেবের সঙ্গে সিনেমা!
বুলেট সাহস জুগিয়ে বলেন, তুমি পারবে। সবকিছুই শিখিয়ে দেবেন দেব দা। চিন্তা করো না। রাজি হয়ে যান রাইমা। জামুড়িয়ায় শ্যুটিংয়ে ‘খাদান’ সিনেমার প্রতিবাদী এক নারী চরিত্রে আত্মপ্রকাশ তাঁর। প্রথম দিনের শ্যুটিংয়েই রাইমার যাবতীয় জড়তা কাটিয়ে দেন খোদ দেব। সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে রাইমার চোখে আনন্দাশ্রু। বলছিলেন, ‘ঈশ্বর আমার সব স্বপ্ন পূরণ করে দিলেন।’
রাইমা বার্নপুরের কলেজ ছাত্রী। বাবা সুদাম পাল পান-চিপস-চকোলেট বিক্রি করেন। বার্নপুর বাজারে তাঁর ছোট্ট গুমটি। দুই মেয়ের মধ্যে রাইমা বড়। খুব কষ্ট করে বড় মেয়েকে কলেজে পড়াচ্ছেন। তার উপর মেয়ের শখ মেটাতে অবস্থা কাহিল। রাইমার শখ একটাই—তিনি দেবের পরম ভক্ত। শিল্পাঞ্চলের কোনও হলে দেবের সিনেমা এলেই তিনি দেখবেনই। না দেখাটাই যেন তাঁর কাছে অপরাধ!
রাইমার তখন পাঁচ বছরের ফুটফুটে মেয়ে। ‘দুই পৃথিবী’ সিনেমাতে প্রিয় অভিনেতা দেবের মৃত্যুর দৃশ্য দেখে সে কি কান্না তার! কিছুতেই থামানো যাচ্ছিল না তাকে। তারপর দিন যত গড়িয়েছে কিশোরী থেকে তরুণী হয়েছে রাইমা। মনের মণিকোঠায় ঠাঁই দেওয়ার ছেলেবেলার নায়ককে আরও বেশি করে শ্রদ্ধার ভালোবাসায় লালন করেছেন। কোনও মন্দির কিংবা তীর্থস্থানে গেলেই দেবের নামে পুজো দিতেন। জন্মদিন পালন করতেন। দেবের নতুন কোনও সিনেমা রিলিজ করলে, তার সাফল্য কামনায় ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতেন। নিজেও প্রথম দিনের প্রথম শো দেখতে যেতেন। খরচ সামলাতে পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে মেহেন্দির কাজ শিখতেন। শিখেই আয় করতে শুরু করলেন। সেই টাকা জমিয়ে ব্যয় করতেন দেব-সাধনায়। এনিয়ে রাইমাকে কম গঞ্জনাও শুনতে হয়নি বন্ধুদের কাছ থেকে। কিন্তু স্বপ্নে অবিচল ছিলেন—একটিবার অন্তত দেবদর্শন করবেনই।
রাইমার স্বপ্নপূরণ হল চলতি বছরের মার্চ মাসে। ‘খাদান’ সিনেমার শ্যুটিংয়ে বাঁকুড়ার বড়জোড়ায় এসেছিলেন টলিউড-স্টার দেব। সিনেমাতে অভিনয় করছেন শিল্পাঞ্চলের যুবক বুলেট মণ্ডল। রাইমা তাঁর কাছেই বায়না ধরে, যে করেই হোক দেবের সঙ্গে একবার দেখা করিয়ে দেওয়ার। কথা রাখে বুলেট। বড়জোড়ায় প্রথম স্বপ্নের নায়ককে দর্শন করেন রাইমা। তার পরের ঘটনা রামবাঁধের মিষ্ঠুর জীবনে রূপকথার মতো। ছ’মাস বাদে রাইমার কাছে ফোন। বলা হয়—তুমি অভিনয় করবে? দেবের সিনেমাতে? নিজের কানকেই যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না রাইমা। আরাধ্য দেবের সঙ্গে সিনেমা!
বুলেট সাহস জুগিয়ে বলেন, তুমি পারবে। সবকিছুই শিখিয়ে দেবেন দেব দা। চিন্তা করো না। রাজি হয়ে যান রাইমা। জামুড়িয়ায় শ্যুটিংয়ে ‘খাদান’ সিনেমার প্রতিবাদী এক নারী চরিত্রে আত্মপ্রকাশ তাঁর। প্রথম দিনের শ্যুটিংয়েই রাইমার যাবতীয় জড়তা কাটিয়ে দেন খোদ দেব। সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে রাইমার চোখে আনন্দাশ্রু। বলছিলেন, ‘ঈশ্বর আমার সব স্বপ্ন পূরণ করে দিলেন।’



