সংবাদদাতা, কালনা: এক বছর আগে মেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে কালনার একটি নার্সিংহোমের কোয়ার্টারে। এক বছরের মাথায় এবার ওই নার্সিংহোমের কোয়ার্টারে মিলল মায়ের মৃতদেহ। মৃতার নাম অপর্ণা প্রামাণিক(৩৭)। তাঁর বাড়ি কালনার উপলতি গ্রামে। মঙ্গলবার মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কালনা মহকুমা হাসপাতাল থেকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে রেফার করা হয়। মৃতার পরিবারের দাবি, ওই মহিলা মেয়ের মৃত্যুশোক ভুলতে না পেরে আত্মঘাতী হয়েছেন। পুলিস একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে বলে পরিবারের দাবি। তাতে লেখা, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। আমার মেয়ের মরণযন্ত্রণা আমি সহ্য করতে পারছি না। তাই চলে গেলাম মেয়ের কাছে।’ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কালনার এসটিকেকে রোডের ধারে একটি নার্সিংহোমের কোয়ার্টারে থাকতেন অপর্ণা প্রামাণিক ও তাঁর মেয়ে মন্দিরা প্রামাণিক। অপর্ণাদেবী নার্সিংহোমে কাজ করলেও মন্দিরা পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকত। সে নবম শ্রেণিতে পড়ত। ২০২৪ সালের মার্চে নার্সিংহোমের কোয়ার্টারে মন্দিরার গলায় ফাঁস দেওয়া ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। সোমবার বিকেলে তার পাশের ঘরেই অপর্ণাদেবীর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, সেবিষয়ে পুলিস বা হাসপাতালের সুপার কিছু বলতে চাননি।
অপর্ণাদেবীর ভাই উপেন হাজরা বলেন, ভাগ্নির মৃত্যুর পর থেকে দিদি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। ওর চিকিৎসা চলছিল। দিনকয়েক আগে ভাগ্নির বাৎসরিক কাজ হয়। দিদি নার্সিংহোমেই কাজ করত। বেশিরভাগ সময় সেখানেই থাকতো। সোমবার আমরা জানতে পারি, দুপুরে খাওয়া-দাওয়া করে দিদি বিশ্রাম নিতে যায়। বিকেল ৫টা নাগাদ দিদিকে নার্সিংহোমের একটি ঘরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। একটি সুইসাইড নোট পাওয়া গিয়েছে। আমাদের অনুমান ভাগ্নির মৃত্যুশোক ভুলতে না পেরে দিদি আত্মঘাতী হয়েছে।
নার্সিংহোমের তরফে নাসির শেখ বলেন, মেয়ের মৃত্যুর পর ওই মহিলা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। সবসময় শুধু মেয়ের কথাই বলতেন। তবে, নার্সিংহোমের কাজকর্ম খুব দায়িত্ব নিয়ে করতেন। এই ঘটনায় আমরা স্তম্ভিত। কালনা মহকুমা হাসপাতালের সুপার চন্দ্রশেখর মাইতি বলেন, মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মৃতদেহ বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।