মুম্বই: বাইরে সাইনবোর্ডে লেখা ‘ডে-কেয়ার সেন্টার, ওপেনিং শর্টলি’। বন্ধ লোহার দরজা পেরিয়ে কারও ঢোকার উপায় নেই। কিন্তু কিছুদিন ধরেই বাড়ির ভিতর থেকে দুর্গন্ধে সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। ভিতরে ঢুকে চক্ষু চড়কগাছ! উদ্ধার হয় পচাগলা মৃতদেহ। অবাক হওয়ার পালা সেখানেই শেষ নয়। খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, চার বছর আগেই মৃত্যু হয়েছে ওই ব্যক্তির। কিন্তু মেয়ে শেষকৃত্য না করে বাবার দেহ সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেন। আর সেই কারণেই ওই ডে-কেয়ার সেন্টারে ফ্রিজারে রাখা ছিল দেহ। কিন্তু একমাস আগে ওই সেন্টারটি বন্ধ হয়ে যায়। তাতেই দেহে পচন ধরে বলে মনে করছে পুলিশ। মুম্বইয়ের মালাড ইস্টের এই ঘটনা উসকে দিয়েছে কলকাতার রবিনসন স্ট্রিটের স্মৃতি। পুলিশ জানিয়েছে, ৭৮ বছরের ওই ব্যক্তি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। হৃদরোগে মৃত্যু হয় তাঁর। মৃত্যুতে কোনো অস্বাভাবিকত্ব নেই। পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, মৃতের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তাঁরা নিজেরাই শেষকৃত্য করবেন নাকি দেহ বৃহন্মুম্বই পুরনিগমের (বিএমসি) হাতে তুলে দেবেন, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, মৃতের ৪০ বছরের মেয়ে আন্ধেরি ওয়েস্ট এলাকায় বসবাস করেন। বাবার প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি দেহ সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেন। ডে-কেয়ার সেন্টারের পরিচালকরাও বিষয়টি এতদিন পুলিশকে জানাননি। যে জমিতে ওই সেন্টারটি অবস্থিত, সেটির মালিক সেখানে নতুন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। সম্ভবত সেই কারণেই বন্ধ হয়ে যায় সেন্টারটি। মৃতের মেয়ে জানিয়েছেন, বাবার দেহ সংরক্ষণের জন্য তিনি আমেরিকার একটি সংস্থার সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলেন। দেহ নিয়ে আমেরিকায় যাওয়ার পরিকল্পনাও ছিল তাঁর। এর জন্য টাকা জমাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু তার আগেই বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে এল।



